টানেল থেকে বেরিয়ে ব্রিজের ওপর আছড়ে পড়ল গাড়ি

ভারতের হিমাচল প্রদেশের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা অটল টানেলের কাছে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একজন পর্যটক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ বলছে, অতিরিক্ত গতির কারণে পাহাড়ি সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম কৈলাশ (৩৪)। তিনি রাজস্থানের সিকার জেলার বাসিন্দা। আহতদের মধ্যে রয়েছেন উত্তর প্রদেশের লখিমপুরের বাসিন্দা আদিত্য, রাজস্থানের রাজেন্দ্র ও গাড়িচালক সিদ্ধার্থ। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, গত ৩০ জুন রাতে চার বন্ধু মানালি থেকে লাহুলের উদ্দেশে যাত্রা করেন। রাত প্রায় ১০টার দিকে অটল টানেলের উত্তর প্রান্ত অতিক্রম করার কিছুক্ষণ পরই তাদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারায়।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতির কারণে পাহাড়ি সড়কের একটি বাঁক ঠিকভাবে নিতে পারেননি চালক। এতে গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে চন্দ্রা নদীর দিকে চলে গিয়ে নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতুর সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের তীব্রতায় গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। আহত তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও কৈলাশকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়।
দুর্ঘটনার পর পর্যটকদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে হিমাচল প্রদেশ পুলিশ। বর্ষাকালে পাহাড়ি এলাকায় বিশেষ করে রাতের সময় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত গতিসীমা মেনে গাড়ি চালানো এবং বৃষ্টির সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ জানায়, বর্ষাকালে পাহাড়ি সড়কগুলো বৃষ্টির কারণে পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। অনেক সময় ঘন কুয়াশা ও দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তাই পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণের স্বার্থে ট্রাফিক নির্দেশনা ও গতিসীমা কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতি বছর মানালি ও লাহুল-স্পিতি অঞ্চলে দেশ-বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক ভ্রমণে যান। সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনা বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি সড়কে নিরাপদ ভ্রমণের গুরুত্ব আবারও সামনে এনে দিয়েছে।





