যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ দাবানল, ঘরছাড়া দুই হাজার মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে দাবানল। বর্তমানে এই অঞ্চলে প্রায় ৪০টি বড় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের অ্যাসপেন অ্যাক্রেস ফায়ার সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ডেনভারের দক্ষিণ-পশ্চিমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই আগুনের কারণে দুই হাজারের বেশি বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
তীব্র বাতাস এবং দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুন দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। শুক্রবার নাগাদ এই দাবানলটি মাত্র এক রাতের মধ্যে ৪৪ বর্গকিলোমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এটি মোট ২৭২ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আগুনে ইতোমধ্যে ১৬০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ও স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলোরাডো সিটি, বিউলাহ, রাই এবং সান ইশাবেল এলাকার প্রায় ২ হাজার ২০০ বাসিন্দাকে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দাবানলের তীব্র ধোঁয়ার কারণে ইন্টারস্টেট-২৫ মহাসড়কের কিছু অংশে দৃষ্টিসীমা এক কিলোমিটারেরও নিচে নেমে এসেছে। এতে করে ওই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কলোরাডো ন্যাশনাল গার্ডের প্রায় ৫০ জন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তারা রাস্তায় চেকপয়েন্ট পরিচালনা করছেন। একই সঙ্গে পুয়েবলো জলাশয় থেকে ফায়ার সার্ভিসের পানি সংগ্রহের কাজ নির্বিঘ্ন রাখতে সাহায্য করছেন। আবহাওয়াবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গত কয়েক মাসের চরম শুষ্ক আবহাওয়া এবং রেকর্ড পরিমাণ কম তুষারপাতের কারণে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তবে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই আগুনের সূত্রপাত কোনো মানুষের অসতর্কতার কারণে হয়েছে।
কলোরাডোর পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ইউটাহ অঙ্গরাজ্যেও দাবানল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সেখানে কটনউড ফায়ার এবং ব্যাবিলন ফায়ার নামের দুটি আলাদা দাবানল ইতোমধ্যে ৭০০ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি এলাকা পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে এই অঞ্চলের আগুন নেভাতে গিয়ে তিনজন দমকলকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।
এই চরম ঝুঁকির কারণে কলোরাডোর বেশ কিছু কাউন্টিতে আগুন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস (৪ জুলাই) উপলক্ষে আয়োজিত বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী আতশবাজি প্রদর্শনীও বাতিল করা হয়েছে। যদিও চলতি সপ্তাহের শেষে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, তীব্র বৃষ্টির কারণে পুড়ে যাওয়া এলাকায় নতুন করে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।




