মমতার অফিস দখলে নিল তৃণমূলের বিদ্রোহীরা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
মমতার অফিস দখলে নিল তৃণমূলের বিদ্রোহীরা
কার্যালয়ের সামনে অরূপ রয়কে চেয়ারম্যান উল্লেখ করে ব্যানার টানিয়েছে বিদ্রোহী তুণমূল। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবার প্রকাশ্য রূপ নিল। দলটির নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতার মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত তৃণমূলের মূল কার্যালয়টি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী।

শনিবার (৪ জুলাই) এ কার্যালয় থেকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আনুষ্ঠানিক কাজকর্ম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতার দলীয় কার্যালয় দখল প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ‘আমরাই আসল তৃণমূল কংগ্রেস। আর এটি আমাদের সদর দপ্তর।’

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সাল থেকে এই ভবন তৃণমূলের মূল দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। কারণ দলটির আগের কার্যালয় বর্তমানে পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীর এই আকস্মিক অভিযানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের প্রবীণ বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম, সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান এবং দলের কোষাধ্যক্ষ আকরুজ্জামানসহ একাধিক বিধায়ক। কার্যালয়ে প্রবেশ করে তারা মূল ফটকের পুরনো তালা বদলে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর সেখানে নতুন পোস্টার লাগিয়ে ভেতরে একটি সাংগঠনিক বৈঠক করেন তারা।

কার্যালয়ের মূল ফটকে লাগানো একটি নতুন পোস্টারে প্রবীণ বিধায়ক অরূপ রায়কে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ভবনের ভেতরে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ও কাট-আউটগুলো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বিদ্রোহী শিবিরের নেতা আকরুজ্জামান জানান, এই কার্যালয়ের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের একটা বড় আবেগ জড়িয়ে আছে। ভবনের মালিকদের সঙ্গে সমস্ত আইনি চুক্তি সম্পন্ন করে তারা এই কার্যালয় থেকে সব সাংগঠনিক কাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কার্যালয় দখলের ঠিক একদিন আগে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন এক প্রতিনিধি দল। সেখানে তারা তৃণমূল কংগ্রেসের নাম, দলীয় প্রতীক (জোড়া ফুল), সাংগঠনিক কাঠামো এবং দলীয় সবপত্তির ওপর নিজেদের অধিকার দাবি করেন। বিদ্রোহীদের সঙ্গে বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে দুই পক্ষকে আগামী ৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে সাংগঠনিক নির্বাচন, অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী এবং দলের মূল নিয়ন্ত্রণ কার হাতে—এই সংক্রান্ত নথিপত্র ও পাল্টা দাবি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

দলীয় কার্যালয় হাতছাড়া হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত বিধায়ক ও নেতারা দ্রুত সেখানে ছুটে যান। কিন্তু গেটে তালা থাকায় তারা ভেতরে ঢুকতে পারেননি। এই ঘটনাকে অত্যন্ত ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রবীণ তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দলের যেকোনো বিধায়কের দলীয় কার্যালয়ে আসার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সেখানে কেন তালা লাগানো হবে?

তিনি বিদ্রোহীদের কটাক্ষ করে আরও বলেন, তৃণমূল কর্মীরা যখন বিপদে পড়েন বা আক্রান্ত হন, তখন এই নেতাদের নির্বাচনী এলাকায় দেখা যায় না। অথচ আজ তারা অন্য কারোর হাতের পুতুল হয়ে এই সব নোংরা খেলায় মেতেছেন।

একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, রাজ্য প্রশাসন এবং পুলিশের পরোক্ষ মদদে বিদ্রোহীরা এই কার্যালয় দখল করতে পেরেছে। যদিও বিদ্রোহী গোষ্ঠী এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

গত মাসে অরূপ রায়কে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করে বিদ্রোহী গোষ্ঠী। দলের মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন আগে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা পদের জন্য ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন জানিয়ে মমতার মনোনীত প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করেন। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তাদের সঙ্গে প্রায় ৬৫ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে।

শুধু রাজ্য বিধানসভাই নয়, দিল্লিতেও বড় ধাক্কা খেয়েছে মমতা শিবির। তৃণমূলের ২৮ জন লোকসভা এমপির মধ্যে ২০ জন ইতোমধ্যে দল ত্যাগ করে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়ার (এনসিপিআই) সঙ্গে এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া দলের আরও অনেক প্রবীণ নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখছেন। ফলে দলটির নাম, প্রতীক ও বিপুল সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে এখন আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই তুঙ্গে।