Advertisement

রেফারিং বিতর্ক নিয়ে জবাব দিলেন মেসি

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
রেফারিং বিতর্ক নিয়ে জবাব দিলেন মেসি
ছবি: রয়টার্স

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার পথে রেফারিদের সহায়তা পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বারবার। এত দিন বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও এবার সমালোচকদের সরাসরি জবাব দিয়েছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা অধিনায়কের স্পষ্ট কথা, তাদের এই সাফল্য কারও কাছ থেকে পাওয়া উপহার নয়।

বুধবার আটলান্টায় নাটকীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। অ্যান্থনি গর্ডনের ৫৫তম মিনিটের গোলে এগিয়ে যাওয়া ইংল্যান্ড ৮৫ মিনিট পর্যন্ত জয় দেখছিল। শেষ দিকে ম্যাচের দৃশ্যপট পাল্টে দেন মেসি ও তাঁর সতীর্থরা।

মেসির পাস থেকে ৮৫তম মিনিটে সমতা ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির ক্রসে হেড করে জয়সূচক গোল করেন বদলি হিসেবে নামা লাউতারো মার্তিনেজ। নিজে গোল না পেলেও দুটি গোলই বানিয়ে দেন আর্জেন্টিনার ৩৯ বছর বয়সী অধিনায়ক।

ম্যাচের পর সমালোচকদের উদ্দেশে মেসি বলেন, কারও খারাপ লাগলেও আর্জেন্টিনার অর্জনকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। গত চার বছর নিজেদের বিশ্বসেরা হিসেবে প্রমাণ করার পর আবারও বিশ্বকাপের সেরা দুই দলের একটি হয়েছে তারা।

মেসির ভাষায়, ‘আমরা যা করেছি, তা কোনো কাকতালীয় নয়। কেউ আমাদের কিছু উপহার দেয়নি।’

টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠাকে আর্জেন্টিনার ধারাবাহিকতার প্রমাণ হিসেবেও দেখছেন মেসি। ইংল্যান্ডের কাছে হেরে গেলে সমালোচকেরা আবারও নানা কথা বলতেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে মাঠের ফল দিয়েই সেই সুযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় সন্তুষ্ট আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। এপির প্রতিবেদনে মেসির প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়েছে।

চলতি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার কয়েকটি ম্যাচের রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শেষ ষোলোয় মিসরের বিপক্ষে ১১ মিনিট বাকি থাকতে ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল লিওনেল স্কালোনির দল। শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ গোলে জেতে তারা। ম্যাচের পর মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন রেফারিংকে পক্ষপাতদুষ্ট দাবি করে আপত্তি জানায়। মিসরের কোচ হোসাম হাসানও অভিযোগ করেন, ফুটবলের প্রভাবশালী মহল মেসি ও আর্জেন্টিনার পক্ষে কাজ করছে।

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালেও একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হয়। ম্যাচ ১-১ থাকা অবস্থায় ব্রিল এমবোলোর সঙ্গে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের একটি ঘটনায় শুরুতে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছিল। ভিডিও পর্যালোচনার পর এমবোলোর বিরুদ্ধে ডাইভিংয়ের সিদ্ধান্ত আসে। আগে থেকেই একটি হলুদ কার্ড থাকায় মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। দশজনের সুইজারল্যান্ডকে পরে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা।

সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিন সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করে বলেছিলেন, এমন নিয়মে শাস্তি পাওয়া তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এসব ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিফা আর্জেন্টিনাকে আবারও চ্যাম্পিয়ন দেখতে চায় বলে অভিযোগ ছড়ালেও তার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আর্জেন্টিনা কোচ স্কালোনিও স্বীকার করেছেন, তার দলকে রেফারিরা সাহায্য করছে এমন আলোচনা সহজে থামবে না। তবে ভিএআরের যুগে কোনো দলকে গোপনে সুবিধা দেওয়া কঠিন বলেই মনে করেন তিনি। স্কালোনির দাবি, মাঠে তারা কোনো বিশেষ সহায়তা পাননি।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সমতাসূচক গোলের পর দুই কানে হাত দিয়ে এবং আঙুল নেড়ে সমালোচকদের উদ্দেশে ইঙ্গিত করেছিলেন এনজো ফার্নান্দেজ। পরে তিনি জানান, সেই উদ্‌যাপনে আনন্দের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সমালোচনা থেকে তৈরি হতাশাও মিশে ছিল।

এবার টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের সামনে আর্জেন্টিনা। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন। নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ১৯ জুলাই স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় শুরু হবে শিরোপার লড়াই। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি শুরু হবে ২০ জুলাই রাত ১টায়।