‘ফ্রান্স দলে ফরাসি নেই’, স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যে বিতর্ক

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
‘ফ্রান্স দলে ফরাসি নেই’, স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যে বিতর্ক
স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাজয়। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও ফ্রান্স। মাঠের লড়াইয়ের আগেই দুই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে উত্তাপ। ফ্রান্স দল নিয়ে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাজয়ের একটি মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে বর্ণবাদ ও বিদেশিবিদ্বেষের বিতর্ক।

২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্পেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন রাজয়। দেশটির অনলাইন সংবাদমাধ্যম এল দিবাতে বিশ্বকাপ নিয়ে নিয়মিত কলাম লিখছেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে স্পেনের ২-১ গোলের জয়ের পর লেখা কলামেই ফ্রান্স দলকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যটি করেন রাজয়।

ফরাসিদের শক্তির প্রশংসা করে তিনি লেখেন, দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি গত আসরের ফাইনালিস্ট। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সব ম্যাচ জিতেছে তারা। র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা দলটির স্কোয়াডও দুর্দান্ত। এরপরই রাজয় যোগ করেন, ‘কিন্তু তাদের দলে কোনো ফরাসি খেলোয়াড় নেই।’

রাজয়ের মন্তব্যটিকে ফ্রান্স দলের কৃষ্ণাঙ্গ ও অভিবাসী পরিবারের সদস্যদের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। অথচ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের ২৬ সদস্যের দলের মাত্র তিনজন দেশটির বাইরে জন্মেছেন। মাইকেল ওলিসের জন্ম লন্ডনে। মার্কাস থুরাম জন্মেছিলেন ইতালিতে, যখন তাঁর বাবা লিলিয়ান থুরাম সেখানে ক্লাব ফুটবল খেলতেন। গোলরক্ষক ব্রিস সাম্বার জন্ম কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে। তারা সবাই ফরাসি নাগরিক।

রাজয়ের মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন স্পেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, কেউ কেউ এখনো পদবি, জন্মস্থান কিংবা গায়ের রং দিয়ে একজন মানুষের পরিচয় নির্ধারণ করেন। অন্যরা পরিচয় খোঁজেন একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সেই দেশের জন্য অবদান রাখার ইচ্ছায়।

সানচেজ আরও লিখেছেন, ‘ফ্রান্স, সেমিফাইনালে দেখা হবে। সেরা দলটি জিতুক এবং বর্ণবাদ হারুক।’

প্রতিক্রিয়া এসেছে ফ্রান্স সরকারের পক্ষ থেকেও। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ মন্তব্যটিকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলেছেন। তার ভাষায়, বৈচিত্র্যই ফ্রান্সের বাস্তবতা এবং রাজয়ের বক্তব্য কোনোভাবেই দেশটির প্রতিনিধিত্ব করে না।

ফরাসি সমাজতান্ত্রিক দলের নেতা অলিভিয়ে ফোর বলেছেন, জাতীয় দলের সব খেলোয়াড়ই ফরাসি নাগরিক। ফ্রান্স কোনো নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী, গায়ের রং কিংবা ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত দেশ নয়। প্রজাতান্ত্রিক মূল্যবোধই দেশটির নাগরিকদের এক করে।

এর আগে ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে প্যারাগুয়ের এক সিনেটরের বর্ণবাদী মন্তব্যের বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। সেই ঘটনায় প্যারিসের কৌঁসুলিদের কাছে অভিযোগ করেছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন। রাজয়ের মন্তব্যের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছেন ফরাসি সরকারের কয়েকজন সদস্য।

স্পেন ও ফ্রান্সের সেমিফাইনাল মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১টায়। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অবশ্য রাজয়ের মন্তব্য দুই দলের মহারণে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রার উত্তাপ।