মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সামরিক ঘাঁটি যেগুলো

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্য গত মার্চ মাস থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে ইরান দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হেনেছে।
তবে বার্তা রয়টার্সের প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, ইরান যে সব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে সেগুলো মূলত দেশগুলোর নিজস্ব ঘাঁটি। মার্কিন সেনারা মাঝে মাঝে ঘাঁটিগুলোতে যাতায়াত বা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে মাত্র। তবে এই মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বেশ কিছু নিজস্ব শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
এদিকে নতুন করে শুরু হওয়া উত্তেজনায় ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় এই ঘাঁটিগুলোর কোনো ক্ষতি হয়েছে কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোর বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো।
বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সদর দপ্তর
মধ্যপ্রাচ্যের সুরক্ষায় বাহরাইন আমেরিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটি। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিখ্যাত পঞ্চম নৌবহরের (ফিফথ ফ্লিট) প্রধান সদর দপ্তর অবস্থিত। এই নৌবহরের দায়িত্বাধীন এলাকার মধ্যে রয়েছে পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর এবং ভারত মহাসাগরের কিছু কৌশলগত অংশ।
কাতারে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম মার্কিন ঘাঁটি
কাতারের রাজধানী দোহার বাইরে মরুভূমিতে অবস্থিত ২৪ হেক্টরের ‘আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিটি’ মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের অগ্রবর্তী সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
পশ্চিমে মিশর থেকে শুরু করে পূর্বে কাজাখস্তান পর্যন্ত বিশাল অঞ্চলের সামরিক অভিযান নিয়ন্ত্রণ করে থাকে এই ঘাঁটি থেকে। এই ঘাঁটিতে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।
কুয়েতের কৌশলগত সামরিক ক্যাম্প
কুয়েতে আমেরিকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে ‘ক্যাম্প আরিফজান’ হলো মার্কিন আর্মি সেন্ট্রালের প্রধান অগ্রবর্তী দপ্তর। এছাড়া ইরাক সীমান্ত থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ‘আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি’, যা অত্যন্ত দুর্গম ও রুক্ষ পরিবেশের কারণে ‘দ্য রক’ নামে পরিচিত।

পাশাপাশি ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সময় তৈরি হওয়া ‘ক্যাম্প বুহরিং’ ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন সেনা মোতায়েনের প্রধান ট্রানজিট বা স্টেজিং পোস্ট হিসেবে কাজ করে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জেবেল আলী বন্দর
আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির দক্ষিণে অবস্থিত ‘আল ধাফরা বিমান ঘাঁটিটি’ মার্কিন ও আমিরাত বিমান বাহিনী যৌথভাবে ব্যবহার করে। এটি ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং পুরো অঞ্চলে গোয়েন্দা নজরদারি চালানোর প্রধান কেন্দ্র।

অন্যদিকে, দুবাইয়ের ‘জেবেল আলী বন্দর’ কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক ঘাঁটি না হলেও, এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর বৃহত্তম পোর্ট অব কল বা নোঙরখানা। এখানে নিয়মিত আমেরিকার বড় বড় যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরী অবস্থান করে।
ইরাকের আইন আল আসাদ ও এরবিল ঘাঁটি
ইরাকের পশ্চিম আনবার প্রদেশে অবস্থিত ‘আইন আল আসাদ বিমান ঘাঁটি’ থেকে মার্কিন সেনারা ইরাকি বাহিনী ও ন্যাটোর মিশনকে সরাসরি সহায়তা দেয়। ২০২০ সালে মার্কিন হামলায় ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর এই ঘাঁটিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল।
এছাড়া উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের ‘এরবিল বিমান ঘাঁটিটি’ মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং রসদ সরবরাহের নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
সৌদি সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশটিতে বর্তমানে ২ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা নিয়োজিত রয়েছে। রিয়াদের ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে ‘প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে’ মার্কিন সেনাবাহিনীর অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি এবং টার্মিনাল হাই অল্টিচিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) সিস্টেম মোতায়েন রয়েছে, যা সৌদির আকাশসীমা রক্ষায় কাজ করে।
জর্ডানের বিমান ঘাঁটি
জর্ডানের রাজধানী আম্মানের ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে আজরাকে অবস্থিত ‘মুওয়াফফাক আল সালতি বিমান ঘাঁটিটি’ মার্কিন বিমান বাহিনীর অন্যতম বড় চালিকাশক্তি। এখান থেকে মার্কিন বিমান বাহিনীর ৩৩২তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইং পুরো লেভান্ট বা পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে তাদের বিশেষ সামরিক অভিযানগুলো পরিচালনা করে থাকে।




