ইরানে রাতভর মার্কিন হামলার পর আইআরজিসির পাল্টা হামলা

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার মধ্যে টানা দ্বিতীয় রাতেও ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, রোববার রাতে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে তারা ইরানের বিভিন্ন স্থানে নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে ডজনখানেক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং ছোট নৌযান লক্ষ্যবস্তু ছিল। প্রথমবারের মতো এই অভিযানে সামুদ্রিক ড্রোনও ব্যবহার করা হয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এর আগের দিনও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রায় ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর আইআরজিসি টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর দিকে নতুন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে।
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি
ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, আইআরজিসি কুয়েতের আলি আল সালেম মার্কিন ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংক ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে।
এ ছাড়া আহমাদ আল জাবের বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালিয়ে একটি রাডার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান।
তবে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী এসব হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
বাহরাইনেও হামলার দাবি
ফার্স নিউজের বরাতে আইআরজিসি দাবি করেছে, বাহরাইনের শেখ ইসা মার্কিন বিমানঘাঁটির হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, একটি পি-৮ পোসেইডন বিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং ড্রোন কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, ‘প্রতিশোধমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
এদিকে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে সাইরেন বাজানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
খুজেস্তানে হতাহতের খবর
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহর এলাকায় একটি পানির স্টেশনে আঘাত হানলে একজন নিরাপত্তারক্ষী নিহত এবং আরও চারজন আহত হন। এ ছাড়া খোররামশাহর ও হোভেইজেহ শহরেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।
খুজেস্তানের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক উপ-গভর্নর ভালিউল্লাহ হায়াতি জানান, আহভাজ শহরের আশপাশের কয়েকটি স্থানে এবং পরে আন্দিমেশক এলাকাতেও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অভিযান
যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, রোববার রাতে শুরু হওয়া হামলা তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলেছে। যা সাম্প্রতিক হামলাগুলোর তুলনায় দীর্ঘ সময়ের অভিযান।
এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে।





