নির্মাণের ৩ বছরেও চালু হয়নি জয়িতা ভবন, বসে মাদকের আড্ডা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বান্দরবান
নির্মাণের ৩ বছরেও চালু হয়নি জয়িতা ভবন, বসে মাদকের আড্ডা
নির্মাণের ৩ বছরেও চালু হয়নি জয়িতা ভবন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে বান্দরবানে পাঁচ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত জয়িতা ভবন কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। হস্তান্তরের তিন বছর পার হলেও ভবনটি চালু না হওয়ায় দিন দিন এটি পরিণত হচ্ছে মাদকসেবী ও অপরাধীদের আড্ডখানায়। অন্যদিকে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রাতের আঁধারে চুরি হয়ে যাচ্ছে ভবনের কোটি টাকার এসি ও সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামসহ মূল্যবান সরকারি সম্পদ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের চারপাশে নিয়মিত জনসমাগম নেই। ভবনের বিভিন্ন অংশে অবহেলার স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর নজরদারি না থাকায় সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনাটি এখন অপরাধীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল করিম বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে ভবন নির্মাণ করেছে, কিন্তু কোনো কার্যক্রম না থাকায় এটি এখন অসামাজিক লোকজনের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ এই এলাকায় চলাচল করতেও ভয় পায়।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা শিউলি বেগম বলেন, এই ভবনটি যদি নারীদের জন্য চালু করা হতো তাহলে অনেক মহিলা উপকৃত হতেন। কিন্তু এখন এটি অব্যবহৃত পড়ে থেকে অপরাধীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সরকারি সম্পদ এভাবে নষ্ট হতে দেখা খুবই কষ্টের। ভবনের মূল্যবান যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে গেছে, অথচ কোনো কার্যকর নজরদারি নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভবনটি নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। তবে ভবনটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই সরকারি দপ্তরের বক্তব্যে দায়িত্বের বিভাজন স্পষ্ট হলেও বাস্তবে ভবনটি চালু না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বান্দরবানের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন, এই ভবনটি মূলত নারীদের বিপণিবিতানের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে আমরা ভবনটি মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর, বান্দরবানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছি। বর্তমানে ভবনটির দেখভাল এবং পরিচালনার দায়িত্ব তাদের।

অন্যদিকে বান্দরবান পার্বত্য জেলার মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুপন চাকমা বলেন, ভবনটি শহর থেকে অনেক দূরে হওয়ায় সেখানে যেতে নারীরা আগ্রহী হন না। পরিকল্পনার দিক থেকে এটি একটি দুর্বল সিদ্ধান্ত ছিল। শহরের আশপাশে ভবনটি নির্মাণ করা হলে নারীরা বেশি উপকৃত হতেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, রাত হলেই সেখানে মাদকসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ ঘটে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ভবনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জামসহ অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে। ভবনটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হলেও এটি পরিচালনার জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ফলে নিয়মিত কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবনটি কীভাবে কার্যকরভাবে চালু করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।