৬০ বছরেও পাকা হয়নি সড়ক, ভোগান্তিতে তিন গ্রামের মানুষ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, মাদারীপুর
৬০ বছরেও পাকা হয়নি সড়ক, ভোগান্তিতে তিন গ্রামের মানুষ
সড়কের বেহাল দশা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

নির্মাণের ৬০ বছর পার হলেও মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক এখনও পাকা হয়নি। দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই কাঁচা সড়কটির কারণে বছরের পর বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তিন গ্রামের মানুষ। বর্ষা মৌসুমে সড়কটি যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ওই তিন গ্রামের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুলপদ্মী বাজার থেকে দক্ষিণে সন্নামত বাড়ি হয়ে বাহের মাদ্রা, আজিতুল্লাপাড়া ও ব্রাহ্মন্দী গ্রামের একমাত্র প্রধান সংযোগ সড়কটি বৃষ্টির পানিতে কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও আবার বড় বড় গর্ত। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এই পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ভ্যান, যাত্রীবাহী কিংবা পণ্যবাহী যানবাহন চলতে না পারায় কৃষিপণ্য বাজারজাত করাও কঠিন হয়ে যায়। জরুরি রোগী, গর্ভবতী নারী ও বৃদ্ধদের হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রতিনিয়ত কাদায় পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আলিম মাতুব্বর বলেন, এই রাস্তা যেন আমাদের জন্য মরণফাঁদ। একটু বৃষ্টি হলেই কাদায় ঢেকে যায়। তখন বিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা যেতে পারে না, বয়স্ক মানুষ হাঁটতেও পারেন না। কোনো মালামাল আনা-নেওয়া করা যায় না। দেশের সব জায়গায় উন্নয়ন হলেও আমাদের গ্রামটি এখনো সেই আগের অবস্থায় পড়ে আছে।

আরেক বাসিন্দা মিজান মাতুব্বর বলেন, মাদ্রা এলাকা যেন অবহেলার আরেক নাম। চারপাশের গ্রামগুলোতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও আমাদের এই সড়কটি আজও কাঁচা। দ্রুত রাস্তা পাকাকরণ করা হলে অন্তত মানুষ এই দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাবে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন মাতুব্বর, হাবিল মাতুব্বর, ইমাদ মাতুব্বর ও নুর আমিনসহ আরও কয়েকজন বলেন, আধুনিক বাংলাদেশের এই সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কাঁচা থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। এর ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাই দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে ঝাউদি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ মিন্টু হাওলাদার বলেন, রাস্তা সংস্কারের জন্য একাধিকবার আবেদন করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ বা কাজের অনুমোদন পাইনি।

মাদারীপুর সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন বলেন, রাস্তার জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ করা হবে। এছাড়া এ পর্যন্ত এই সড়ক সংস্কারের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো লিখিত আবেদন বা অভিযোগ আসেনি।

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, যেসব সড়কে সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলোর তালিকা পাওয়া গেলে বরাদ্দের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে কাজ করা হবে।

এদিকে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসী মাদারীপুরের স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছেও লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, জনস্বার্থ ও জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেবে। কারণ একটি পাকা সড়ক শুধু যোগাযোগের পথই নয়, তিন গ্রামের মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনারও দ্বার খুলে দিতে পারে।