১৮ জনের কমিটিতে সিদ্ধান্ত একার, বালোগুন-কাণ্ডে নতুন প্রশ্ন

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
১৮ জনের কমিটিতে সিদ্ধান্ত একার, বালোগুন-কাণ্ডে নতুন প্রশ্ন
ফোলারিন বালোগুনের সেই লাল কার্ড বাতিলের ঘটনা এখনও নতুন প্রশ্ন সামনে আনছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের বিতর্কে এবার সামনে এল আরও বিস্ময়কর তথ্য। ফিফার ১৮ সদস্যের শৃঙ্খলা কমিটির অন্য ১৭ জনের কাউকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়নি। একাই রায় দিয়েছিলেন কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আল-কামালি।

দ্য টাইমসের অনুসন্ধানে জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তা আল-কামালিই বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের পরীক্ষাকালীন সময়ের জন্য স্থগিত করেন। অথচ সিদ্ধান্তটি ফিফা শৃঙ্খলা কমিটির নামে প্রকাশ করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের এই ফরোয়ার্ড বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে ভিএআর পর্যালোচনার পর সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের পায়ে বুট দিয়ে আঘাত করার ঘটনায় তাকে গুরুতর ফাউলের দায়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী পরের ম্যাচে তার স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল।

ফিফা অবশ্য লাল কার্ডটি বাতিল করেনি। বালোগুনকে দোষী সাব্যস্ত করে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাই দেওয়া হয়েছিল। তবে শৃঙ্খলাবিধির ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে সেই শাস্তির বাস্তবায়ন এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে খেলতে পেরেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র ৪-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়।

বিতর্কের বড় কারণ ছিল সিদ্ধান্তের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ। ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছিলেন, তিনি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করে ঘটনাটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। তবে তার দাবি ছিল, সিদ্ধান্ত পাল্টাতে চাপ দেননি তিনি।

ইনফান্তিনোও বলেছিলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে তার কোনো ভূমিকা ছিল না এবং ফিফার বিচারিক সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করেছে। কিন্তু এখন জানা গেল, পূর্ণ কমিটি তো নয়ই, অন্য কোনো সদস্যকেও প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়নি। এতে সেই স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন শুরু থেকেই সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করেছিল। তারা অভিযোগ করেছিল, বারবার চাওয়ার পরও ফিফা সিদ্ধান্তের লিখিত ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় নথি দেয়নি। তাদের আবেদনও এই যুক্তিতে খারিজ করা হয় যে, মূল মামলার পক্ষ না হওয়ায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার অধিকার বেলজিয়ামের নেই।

ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা ঘটনাটিকে নজিরবিহীন, দুর্বোধ্য ও অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেছিল। তাদের সতর্কবার্তা ছিল, নিয়মের নিশ্চয়তা নষ্ট হলে প্রতিযোগিতার বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এখন চেয়ারম্যানের একক সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় বালোগুনকে খেলানোর বৈধতার চেয়ে বড় হয়ে উঠছে আরেকটি প্রশ্ন। রাজনৈতিক অনুরোধের পর ফিফার ১৮ সদস্যের কমিটির নামে একজন কীভাবে এমন ব্যতিক্রমী রায় দিলেন?