ইংল্যান্ডের গোল নিয়ে প্রশ্ন, ফিফা বলছে ভিন্ন কথা

নরওয়ের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়েছে। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের বিদায়ের চেয়েও বেশি আলোচনা হচ্ছে জুড বেলিংহামের সমতাসূচক গোলটি নিয়ে। গোলের আগে বল মাঠের ওপর ঝুলন্ত ক্যামেরার তারে লেগেছিল কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
মায়ামির ম্যাচে ৩৬ মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলডেরুপের গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সমতায় ফেরে ইংল্যান্ড। পরে অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে আবারও গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানের জয় এনে দেন বেলিংহাম।
বিতর্কের সূত্রপাত বেলিংহামের প্রথম গোলের আগে। নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নাইল্যান্ডের গোলকিক মাঝমাঠের দিকে যাওয়ার সময় বলটি হঠাৎ নিচের দিকে নেমে আসে। টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখে মনে হয়েছে, মাঠের ওপর থাকা স্পাইডারক্যামের তারের কাছাকাছি যাওয়ার পরই বলের গতিপথ বদলে যায়।
বলটি এরপর ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসনের কাছে পৌঁছায়। সেখান থেকে দ্রুত আক্রমণ গড়ে তোলে ইংল্যান্ড। অ্যান্থনি গর্ডনের পাস থেকে গোল করেন বেলিংহাম।
গোলের পরপরই ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাইল্যান্ড। তিনি রেফারির কাছে অভিযোগ জানান এবং মাটিতে হাত মেরে প্রতিবাদ করেন। নরওয়ের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডও রেফারির সঙ্গে কথা বলেন। বিরতির সময় কোচ স্টালে সোলবাকেনকে ম্যাচ কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাইতে দেখা যায়। ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করেছে ফক্স স্পোর্টস।
On the play that led to England's equalizer, the ball hit the FIFA sky cam before the goal. pic.twitter.com/QZgYSVcSpK
— FOX Sports (@FOXSports) July 11, 2026
ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী, মাঠের বাইরের কোনো বস্তুতে বল লেগে খেলায় প্রভাব পড়লে রেফারিকে খেলা থামিয়ে ড্রপ বলের মাধ্যমে পুনরায় শুরু করতে হয়। ফলে ক্যামেরার তারে বল লাগার বিষয়টি নিশ্চিত হলে ইংল্যান্ডের ওই আক্রমণটি চালু থাকার কথা ছিল না।
সাবেক প্রিমিয়ার লিগ রেফারি মার্ক ক্ল্যাটেনবার্গের মতে, ঘটনাটি গোলের আগে ইংল্যান্ডের আক্রমণের অংশ হওয়ায় ভিডিও সহকারী রেফারি চাইলে সেটি পর্যালোচনা করতে পারতেন। রিপ্লেতে তারে স্পর্শের বিষয়টি ধরা পড়লে গোল বাতিল হওয়ার সুযোগও ছিল। দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে তাঁর এই ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে।
তবে ফিফা নরওয়ের অভিযোগ মানেনি। সংস্থাটির দাবি, ম্যাচের সংযুক্ত প্রযুক্তির বল থেকে পাওয়া সেন্সর তথ্যে সম্ভাব্য স্পর্শের সময় কোনো অস্বাভাবিক কম্পন বা পরিবর্তন পাওয়া যায়নি। তাই বল ক্যামেরার তারে লেগেছিল, এমন প্রমাণ তাদের কাছে নেই। এই ব্যাখ্যার পর বেলিংহামের গোলটি বহাল থাকে। ইএসপিএনের প্রতিবেদনে ফিফার বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে।
Before England’s goal in minute 45+2 against Norway, the sensor in the Connected Ball showed no peak in the 'heartbeat of the ball' when in the air, and therefore no evidence that the ball touched the overhead wire and changed the movement of the ball. pic.twitter.com/gYf9ukfveT
— FIFA Media (@fifamedia) July 11, 2026
সেন্সর তথ্য ইংল্যান্ডের পক্ষে গেলেও টেলিভিশন রিপ্লে নরওয়ের অভিযোগ পুরোপুরি থামাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠেছে, কিন্তু বেলিংহামের সমতাসূচক গোলের আগের সেই মুহূর্ত বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত বিতর্ক হয়েই থাকছে।





