৭ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের চেয়েও বেশি ফলোয়ার ভোজিনিয়ার

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফুটবল বিশ্বের বড় অংশের কাছেই ভোজিনিয়া নামটা ছিল অচেনা। কিন্তু কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া এখন ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আলোচিত মুখ। মাঠের পারফরম্যান্সের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তৈরি করেছেন অবিশ্বাস্য ঝড়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপ শুরুর আগে ভোজিনিয়ার ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার ছিল প্রায় ৩০ হাজার। টুর্নামেন্ট শেষে সেটি ছাড়িয়েছে ২২ মিলিয়ন। শুক্রবার রাত পর্যন্ত তার ফলোয়ার সংখ্যা ছিল ২২.৫ মিলিয়ন। সংখ্যাটি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বিশ্বকাপজয়ী আট দেশের মধ্যে সাতটির জাতীয় দলের ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারকেও ছাড়িয়ে গেছেন কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষক।
শুধু ব্রাজিল জাতীয় দলের ফলোয়ার সংখ্যা ভোজিনিয়ার চেয়ে বেশি। ব্রাজিলের ফলোয়ার ২৬ মিলিয়নের বেশি। কিন্তু ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, স্পেন, জার্মানি, ইতালি ও উরুগুয়ের জাতীয় দলের চেয়েও এখন বেশি ফলোয়ার ভোজিনিয়ার। প্রতিবেদনে ফ্রান্সের ফলোয়ার ১৮ মিলিয়ন, আর্জেন্টিনার ১৬.১ মিলিয়ন, ইংল্যান্ডের ১২.৮ মিলিয়ন, স্পেনের ৭.৮ মিলিয়ন, জার্মানির ৭.৬ মিলিয়ন, ইতালির ৬.৪ মিলিয়ন ও উরুগুয়ের ১.৭ মিলিয়ন বলা হয়েছে।
ভোজিনিয়ার জনপ্রিয়তার শুরু স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ থেকে। ২০১০ বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রুখে দেওয়া ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি। এরপর উরুগুয়ের বিপক্ষে ড্র এবং শেষ ৩২-এ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অসাধারণ লড়াই তাঁকে আরও বড় তারকায় পরিণত করে। মেসির বিপক্ষে একের পর এক সেভে আবারও আলোচনায় আসেন ৪০ বছর বয়সি গোলরক্ষক।
এই জনপ্রিয়তা মাঠের বাইরেও সুযোগ তৈরি করেছে। বিশ্বকাপ চলাকালেই প্রথম বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছেন ভোজিনিয়া। স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্রি হয়েছে তার মুখোশ। বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রচ্ছদে জায়গা পেয়েছেন তিনি, জায়গা পেয়েছেন বিশ্বকাপের সেরা একাদশ নিয়ে নানা ভোটেও।
কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে। তবে ভোজিনিয়ার গল্প শেষ হয়নি। জিডি শাভেসের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ায় তিনি এখন নতুন ক্লাবের সন্ধানে। ব্রাজিলের ক্লাব সিয়ারার কাছেও তাঁর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বলে খবর।
অভিষেক বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে ইতিহাস লিখেছে। আর সেই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মুখ হয়ে উঠেছেন ভোজিনিয়া, যিনি ৫০ হাজার ফলোয়ারের অচেনা গোলরক্ষক থেকে কয়েক সপ্তাহেই হয়ে উঠেছেন বিশ্বকাপের ভাইরাল নায়ক।





