নেইমারকে কেন খেলাননি, জানালেন আনচেলত্তি

জাপানের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে ব্রাজিল। কিন্তু ম্যাচ শেষে আলোচনার বড় জায়গা হয়ে থাকল নেইমার। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে গা গরম করতে দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামাননি কার্লো আনচেলত্তি। কেন এমন সিদ্ধান্ত, ম্যাচের পর সেটিই ব্যাখ্যা করলেন ব্রাজিল কোচ।
আনচেলত্তি জানিয়েছেন, ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গেলে নেইমারকে নামানোর পরিকল্পনা ছিল তার। তবে ব্রাজিল সমতায় ফেরার পর দল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। সেই অবস্থায় ছক বদলাতে চাননি ইতালিয়ান কোচ।
জাপানের বিপক্ষে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল। ২৯ মিনিটে কাইশু সানোর গোলে এগিয়ে যায় জাপান। বিরতির পর ৫৬ মিনিটে কাসেমিরোর হেডে সমতা ফেরে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরপর যোগ করা সময়ে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোল ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে সাইডলাইনে গা গরম করছিলেন নেইমার। একসময় গ্যালারি থেকেও তার নাম ধরে স্লোগান ওঠে। মনে হচ্ছিল, তাকে নামাতে পারেন আনচেলত্তি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেঞ্চেই থাকেন ব্রাজিলের ১০ নম্বর।
ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি বলেন, তিনি নেইমারকে অতিরিক্ত সময়ের জন্য ধরে রেখেছিলেন। দ্বিতীয় গোল না হলে ৯০ মিনিটে তাকে মাঠে নামানো হতে পারত। তবে ব্রাজিল তখন ভালো খেলছিল এবং ম্যাচের ছন্দ নিজেদের দিকে আনছিল। তাই দলের কাঠামো বদলাতে চাননি তিনি।
নেইমার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে ফিরেছিলেন। কাফ ইনজুরি কাটিয়ে সেটিই ছিল এই বিশ্বকাপে তাঁর প্রথম ম্যাচ। জাপানের বিপক্ষে তাকে আরও বেশি সময় দেখা যেতে পারে, এমন ধারণা ছিল। কিন্তু ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে দেওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি।
আনচেলত্তি অবশ্য দলের গভীরতা নিয়ে সন্তুষ্ট। তার মতে, ব্রাজিল ধৈর্য হারায়নি। মাঠে ও বেঞ্চে অনেক বিকল্প ছিল। জাপানের মতো কঠিন, সংগঠিত ও তীব্র গতির দলের বিপক্ষে এমন জয়কে তাই মূল্য দিচ্ছেন তিনি।
ব্রাজিলের জন্য ম্যাচটি সহজ ছিল না। প্রথমার্ধে জাপান তাদের শৃঙ্খলা ও দ্রুত আক্রমণে ব্রাজিলকে অস্বস্তিতে ফেলে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আনচেলত্তির দল চাপ বাড়ায়। কাসেমিরোর গোলের পর ম্যাচে ফেরে ব্রাজিল, আর শেষ মুহূর্তে মার্তিনেল্লি জয় নিশ্চিত করেন।
এই ম্যাচে আনচেলত্তির বদলিগুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিরতির পর এন্দ্রিককে নামিয়ে আক্রমণে গতি বাড়ান তিনি। পরে মাতেউস কুনিয়ার জায়গায় নামা মার্তিনেল্লিই হয়ে ওঠেন জয়ের নায়ক। নেইমার না খেললেও বেঞ্চের শক্তিই শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলকে বাঁচিয়ে দেয়।
শেষ ষোলোয় ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হবে নরওয়ে ও আইভরি কোস্ট ম্যাচের জয়ী দল। সেই ম্যাচ হবে নিউ জার্সিতে। জাপানের বিপক্ষে নেইমারকে না নামানো নিয়ে আলোচনা থাকলেও আনচেলত্তির কাছে আপাতত সবচেয়ে বড় স্বস্তি, কঠিন নকআউট ম্যাচ পার করে দল এখনো টিকে আছে।






