ক্লোসেকে ছাড়িয়ে মেসির ঘাড়ে নিঃশ্বাস এমবাপ্পের

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
ক্লোসেকে ছাড়িয়ে মেসির ঘাড়ে নিঃশ্বাস এমবাপ্পের
কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের সর্বকালের গোলদাতার তালিকায় নতুন মোড় আনলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। সুইডেনের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে জোড়া গোল করে মিরোস্লাভ ক্লোসেকে পেছনে ফেলেছেন ফরাসি তারকা। বিশ্বকাপে এখন তার গোল ১৮টি। সামনে শুধু লিওনেল মেসি (১৯)।

Advertisement

নিউ জার্সিতে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে ফ্রান্স। ম্যাচের নায়ক এমবাপ্পে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে ব্র্যাডলি বারকোলা ব্যবধান বাড়ান। এরপর নিজের দ্বিতীয় গোল করে ফ্রান্সের জয় নিশ্চিত করেন এমবাপ্পে।

গোল পেতে অবশ্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ফ্রান্স অধিনায়ককে। ম্যাচের ২০ মিনিটে একা এগিয়ে গিয়ে বল জালে জড়ালেও অফসাইডে গোলটি বাতিল হয়। এরপর ৩২ মিনিটে তার শট পোস্টে লাগে। কয়েকটি সুযোগ নষ্টের পর ৪৫ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। ওসমান দেম্বেলের পাস থেকে নিচু শটে সুইডেন গোলরক্ষক জ্যাকব জেটারস্ট্রমকে পরাস্ত করেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। ৫৩ মিনিটে বারকোলা গোল করেন। এরপর ৭৪ মিনিটে আবার এমবাপ্পের ফিনিশিং। দ্রুত আক্রমণে সুযোগ পেয়ে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা গোল করেন ফ্রান্সের তৃতীয়টি।

এই জোড়া গোলেই এমবাপ্পে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় এককভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে গেলেন। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোল এখন পেছনে। ১৫ গোল করা রোনালদো নাজারিও, ১৪ গোলের গার্ড মুলার, ১৩ গোলের জুস্ত ফঁতেন ও ১২ গোলের পেলেকেও পেছনে রেখে এখন মেসির রেকর্ডের পেছনে ছুটছেন এমবাপ্পে।

চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা এখন ছয়। ২০১৮ বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলেই করেছিলেন ৪ গোল, জিতেছিলেন শিরোপা। ২০২২ বিশ্বকাপে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন, যদিও ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে রানার্সআপ হয় ফ্রান্স। এবার তৃতীয় বিশ্বকাপেই তিনি সর্বকালের রেকর্ডের একেবারে কাছে।

অন্যদিকে মেসিও এই বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। গ্রুপ পর্বে একের পর এক গোল করে তিনি বিশ্বকাপ গোলের তালিকায় শীর্ষে উঠেছেন। জর্ডানের বিপক্ষে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলারও হয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা।

এখন বিশ্বকাপের আরেকটি ব্যক্তিগত লড়াই জমে উঠেছে মেসি ও এমবাপ্পের মধ্যে। মেসি ১৯, এমবাপ্পে ১৮। দুজনের দলই এখনো টুর্নামেন্টে টিকে আছে। তাই এই বিশ্বকাপেই সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসন আবার বদলে যেতে পারে।

ফ্রান্সের জন্য স্বস্তির জায়গা শুধু এমবাপ্পে নন, মাইকেল অলিসও। সুইডেনের বিপক্ষে বারবার আক্রমণের কেন্দ্র ছিলেন তিনি। বারকোলার গোলের পেছনে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। এমবাপ্পের দ্বিতীয় গোলের আক্রমণেও ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ। এক আসরে একাধিক অ্যাসিস্ট করে ফ্রান্সের আক্রমণকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই মিডফিল্ডার।

সুইডেন শুরুতে আলেকজান্ডার ইসাক ও ভিক্টর জিওকেরেসকে দিয়ে ফ্রান্সকে চাপে ফেলতে চেয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় দিদিয়ের দেশমের দল। প্রথমার্ধেই ফ্রান্সের দখল, শট ও সুযোগের আধিপত্য স্পষ্ট হয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে সেই চাপ গোলেও রূপ নেয়।

শেষ দিকে সুইডেন অন্তত সান্ত্বনাসূচক গোলের চেষ্টা করেছে। কিন্তু মাইক মাইগনান সতর্ক ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ক্লিন শিট রেখেই শেষ ষোলোয় ওঠে ফ্রান্স।

বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতারা

  • লিওনেল মেসি: ১৯ গোল
  • কিলিয়ান এমবাপ্পে: ১৮ গোল
  • মিরোস্লাভ ক্লোসে: ১৬ গোল
  • রোনালদো নাজারিও: ১৫ গোল
  • গার্ড মুলার: ১৪ গোল
  • জুস্ত ফঁতেন: ১৩ গোল
  • পেলে: ১২ গোল

ফঁতেনের ১৩ গোলের রেকর্ড এখনো আলাদা মর্যাদার। কারণ ফরাসি কিংবদন্তি সব গোল করেছিলেন এক বিশ্বকাপে, ১৯৫৮ সালে। তবে সর্বমোট গোলের দৌড়ে এখন মূল লড়াই মেসি ও এমবাপ্পের।