হলান্ডের জোড়া গোলে শেষ ৩২-এ নরওয়ে

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
হলান্ডের জোড়া গোলে শেষ ৩২-এ নরওয়ে
আর্লিং হলান্ড আবারও জোড়া গোল করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

আর্লিং হলান্ড আবারও দেখালেন, বিশ্বকাপ মঞ্চেও তাকে থামানো কত কঠিন। প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও জোড়া গোল করলেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার। তার জোড়া গোল ও মার্কুস পেদারসেনের গোলে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে নরওয়ে।

Advertisement

গ্রুপ ‘আই’-এর ম্যাচে নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল নরওয়ে। প্রথম ম্যাচে ইরাককে ৪-১ গোলে হারিয়েছিল তারা। সেনেগালের বিপক্ষেও লক্ষ্য ছিল টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়ে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করা। শেষ পর্যন্ত সেটিই করেছে স্তালে সলবাকেনের দল।

ম্যাচের শুরুতেই সেনেগালকে চাপে ফেলে নরওয়ে। একের পর এক কর্নারে সেনেগাল রক্ষণ ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ক্রিস্তোফার আয়ারের প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন এদুয়ার মেন্দি। ধীরে ধীরে সেনেগাল চাপ সামলালেও ম্যাচে সহজ ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিল না কোনো দলই। ভুল পাস, তাড়াহুড়া করা সিদ্ধান্ত এবং অসম্পূর্ণ আক্রমণে প্রথমার্ধের বড় অংশ কাটে অগোছালোভাবেই।

তবে আধা ঘণ্টা পেরোতেই জায়গা পেতে শুরু করে নরওয়ে। হলান্ডের হেড থেকে ওডেগার্ডের সামনে ভালো সুযোগ এসেছিল। মেন্দি তখনও সেনেগালকে বাঁচিয়ে রাখেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আর রক্ষা হয়নি।

সেনেগালের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার কালিদু কুলিবালির বড় ভুল থেকে বল পেয়ে যান মার্কুস পেদারসেন। সুযোগ হাতছাড়া করেননি নরওয়ের ডিফেন্ডার। জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে নরওয়েকে এগিয়ে দেন তিনি।

গোলের পরও থামেনি নরওয়ে। বিরতির আগে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন হলান্ড। মেন্দির ভুলে বল কেড়ে নিয়ে প্রায় ফাঁকা পোস্টে শট নিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু বল লাগে পোস্টে। ফিরতি মুহূর্তে হেড করেও গোল পাননি। মেন্দি দুর্দান্ত সেভে নিজেকে কিছুটা উদ্ধার করেন।

বিরতির পরপরই নরওয়ের সবচেয়ে বড় দুই নামের সংযোগে আসে দ্বিতীয় গোল। মার্টিন ওডেগার্ডের নিখুঁত পাস ধরে বাঁ পায়ের ফিনিশিংয়ে গোল করেন হলান্ড। প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ নষ্টের হতাশা কাটিয়ে বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় গোল পেয়ে যান তিনি।

সেনেগাল অবশ্য দ্রুত জবাব দেয়। নরওয়ের রক্ষণে ফাঁক পেয়ে মাঝখান দিয়ে এগিয়ে যান ইসমাইলা সার। ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে ব্যবধান কমান তিনি। গোলটি সেনেগালকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে, কিন্তু খুব বেশিক্ষণ সেই স্বস্তি থাকেনি।

কিছু মিনিট পরই আবার হলান্ড। এবার বক্সের ভেতর প্রথম ছোঁয়ায় ডান পায়ের শটে গোল করেন ম্যানচেস্টার সিটির তারকা। দুই গোলেই তার স্ট্রাইকারসুলভ অবস্থান নেওয়া, শক্তি ও ফিনিশিংয়ের সামর্থ্য ফুটে ওঠে। স্কোরলাইন ৩-১ হতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবার নরওয়ের হাতে চলে যায়।

এরপর নরওয়ে রক্ষণ আরও গুছিয়ে ফেলে। সেনেগাল আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বারবার ভুল পাস ও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছে। পাল্টা আক্রমণে নরওয়েরও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ ছিল। তবে শেষ দিকে আবার নাটক ফেরান সার। বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। যোগ করা সময়ে গোলটি সেনেগালকে কিছুটা আশা দিলেও সমতা আর ফেরানো যায়নি।

সেনেগালের জন্য এটি বড় ধাক্কা। প্রথম ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ৩-১ গোলে হারার পর এবার নরওয়ের কাছেও হারল তারা। দুই ম্যাচে কোনো পয়েন্ট না থাকায় শেষ ৩২-এ ওঠার পথ এখন কঠিন হয়ে গেল আফ্রিকান শক্তিটির। শেষ ম্যাচে ইরাকের বিপক্ষে বড় জয় পেলেও অন্য ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতে পারে তাদের।

নরওয়ের জন্য ছবিটা একেবারে উল্টো। দুই ম্যাচে দুই জয়, ৬ পয়েন্ট, আর সামনে ফ্রান্সের বিপক্ষে গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াই। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠল নরওয়ে। এবার তারা শুধু অংশ নিতে আসেনি, সেটি প্রথম দুই ম্যাচেই বুঝিয়ে দিয়েছে।

এই জয়ের কেন্দ্রে অবশ্য হলান্ডই। ইরাকের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করেছিলেন। সেনেগালের বিপক্ষেও করলেন জোড়া গোল। দুই ম্যাচে তার গোল এখন ৪টি। মেসি ও এমবাপের রেকর্ডগড়া দিনের পর হলান্ডও নিজের ভাষায় জবাব দিলেন, গোল দিয়ে।