ডেইলি মেইলের প্রকাশকের বিরুদ্ধে করা মামলায় হারলেন প্রিন্স হ্যারি

যুক্তরাজ্যের ডেইলি মেইল এবং মেইল অন সানডে পত্রিকার প্রকাশক ‘অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপার্স’-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা আলোচিত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মামলায় হেরে গেছেন ডাচ অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারি এবং ছয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি।
বিচারক নিকলিন রায় দিয়ে জানান, মামলার বাদীরা বেআইনিভাবে তথ্য সংগ্রহের যে অভিযোগ এনেছিলেন, তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপার্স শুরু থেকেই এই অভিযোগগুলো দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছিল।
রায়ের পর এক যৌথ বিবৃতিতে প্রিন্স হ্যারি এবং ডোরেন লরেন্স তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা আদালতে এসেছিলাম ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার আশায়। কিন্তু আমরা এর কোনোটিই পাইনি। এটি একটি সম্পূর্ণ এবং স্পষ্ট ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা, যা দুঃখজনক হলেও আমাদের জন্য একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল না।’
অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপার্স-এর একজন মুখপাত্র এই রায়কে ‘ডেইলি মেইল এবং এর সাংবাদিকদের জন্য এক বিশাল বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রকাশকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই রায়ের মাধ্যমে বাদীদের আনা ৯৭টি অভিযোগের প্রতিটিই খারিজ হয়ে গেছে এবং এটি ডেইলি মেইলের সাংবাদিকতার একটি বড় গৌরবময় সত্যতার প্রমাণ।
তারা আরও যোগ করেন যে, এই মামলার কারণে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে এবং ৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি আইনি খরচ হয়েছে।
বিচারক তার ৪৩৬ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করেছেন, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর ছিল এবং তা প্রমাণের জন্য আরও জোরালো প্রমাণের প্রয়োজন ছিল। কেবল ‘সন্দেহের’ ওপর ভিত্তি করে এই রায় দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি ডেইলি মেইলের সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্য সূত্রের ব্যাখ্যাগুলো গ্রহণ করেছেন।
চলতি বছরের শুরুর দিকে চলা এই শুনানিতে প্রিন্স হ্যারি ছাড়াও অংশ নিয়েছিলেন অভিনেতা এলিজাবেথ হার্লি, স্যাডি ফ্রস্ট, জনপ্রিয় গায়ক স্যার এলটন জন, তার স্বামী ডেভিড ফার্নিশ এবং সাবেক মন্ত্রী স্যার সাইমন হিউজ। শুনানির সময় হ্যারি আবেগপ্রবণ হয়ে বলেছিলেন যে, এই পত্রিকাগুলোর কারণে তার স্ত্রী মেগান মার্কেলের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যমের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রিন্স হ্যারির দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মধ্যে এটিই ছিল তার প্রথম বড় পরাজয় এবং ধারণা করা হচ্ছে এটিই তার শেষ আইনি লড়াই। এর আগে ২০২৩ সালে মিরর গ্রুপের বিরুদ্ধে এবং পরবর্তীতে দ্য সান পত্রিকার প্রকাশকের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে হ্যারি জয়ী হয়েছিলেন ও ক্ষতিপূরণ পেয়েছিলেন। এই মামলার পরবর্তী দুই দিনের শুনানি আগামী ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।




