Advertisement

ন্যাটো সদর দপ্তরে গুপ্তচরবৃত্তি, চীনা বংশোদ্ভূত নারী গ্রেপ্তার

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ন্যাটো সদর দপ্তরে গুপ্তচরবৃত্তি, চীনা বংশোদ্ভূত নারী গ্রেপ্তার
ন্যাটোর অপারেশনাল সদর দপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমা আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোট ন্যাটোর অপারেশনাল সদর দপ্তরে গুপ্তরচরবৃত্তির সন্দেহে চীনা বংশোদ্ভূত এক কানাডিয়ান নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ন্যাটোর সামরিক জোটের সদর দপ্তরে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করছিলেন। বেলজিয়াম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার (২৫ জুলাই) বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। তবে বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ও তদন্তের স্বার্থে এখনও সন্দেহভাজন নারীর পরিচয় কিংবা অভিযুক্ত বিদেশি দেশটির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।

বেলজিয়ামের ফেডারেল প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, ন্যাটোর নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বেলজিয়ামের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাকে সম্ভাব্য গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়ে আগাম সতর্ক করার পর এই তদন্ত শুরু করা হয়।

শুক্রবার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করার আগে গত বৃহস্পতিবার ন্যাটোর সামরিক সদর দপ্তরের ভেতরে সন্দেহভাজনের বাড়ি ও কর্মস্থলে তল্লাশি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী।

আইনজীবীরা জানান, চীনা বংশোদ্ভূত ওই কানাডীয় নাগরিক একটি বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন যোগসূত্রের অভিযোগে আপাতত তদন্তাধীন রয়েছেন।

বেলজিয়ামের ফেডারেল প্রসিকিউটরের কার্যালয় এক বিবৃততে বলেছে, ‘তৃতীয় একটি দেশের পক্ষে তথ্যপাচার বা গুপ্তচরবৃত্তি এবং একটি অপরাধী সংগঠনের সদস্য হওয়ার অভিযোগে তাকে সন্দেহ করা হচ্ছে।’

এই তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু বেলজিয়ামের মন্স-এ অবস্থিত ন্যাটোর অপারেশনাল সামরিক সদর দপ্তর ‘সুপ্রিম হেডকোয়ার্টার্স অ্যালাইড পাওয়ার্স ইউরোপ’ (শেপ)। এই কেন্দ্র থেকেই সামরিক কর্মকর্তারা জোটের যৌথ পরিকল্পনা, কৌশল এবং অপারেশনাল কমান্ডের সার্বিক তত্ত্বাবধান করে থাকেন।

এ ছাড়াও ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রও এই ‘শেপ’-এ অবস্থিত। তব ইন্টার্ন গ্রেপ্তারের ঘটনার পরও সামরিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে ন্যাটো।

শেপ-এর মুখপাত্র কর্নেল মার্টিন এল ও'ডোনেল এপি-কে বলেন, ‘এই মুহূর্তে এমন কোনো ইঙ্গিত নেই যে ন্যাটো বা শেপ-এর অপারেশনাল প্রস্তুতি, কমান্ড ব্যবস্থা কিংবা চলমান কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। শেপ কোনো বাধা ছাড়াই তার সব কার্যক্রম পালন করছে।’

চীনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা বিশ্বের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি সামনে এলো। এর আগেও ন্যাটো নেতারা বেইজিংকে ‘নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ও জোটের নিরাপত্তার জন্য পদ্ধতিগত চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

তবে চীন ধারাবাহিকভাবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের সামরিক বিকাশকে প্রতিরক্ষামূলক দাবি করে আসছে।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানো ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য ন্যাটোর ওপর রাজনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে।