ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রভাব খাটাচ্ছে ইসরায়েল: ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের চুক্তির বিরোধিতা করতে ইসরায়েল সরকারের কিছু সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন।
মার্কিন উপস্থাপক জো রগানের পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এ মন্তব্য করেন। বুধবার (১৫ জুলাই) প্রকাশিত ওই পর্বে তিনি বলেন, ইসরায়েল সরকারের কিছু ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানবিষয়ক বর্তমান নীতি থেকে সরে আসতে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যাতে সামরিক অভিযান আরও দীর্ঘায়িত করা যায়।
ভ্যান্স বলেন, আমার কোনো সন্দেহ নেই, ইসরায়েল সরকারের ভেতরে এমন কিছু মানুষ আছেন, যারা আমাদের নীতিকে পরিবর্তন করতে চেয়েছেন। কারণ তারা সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে আগ্রহী ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল সরকারের অনেক সদস্যের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তবে কিছু ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জনমত বদলে দিয়ে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ভ্যান্স বলেন, বিশ্বের অনেক মিত্র কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। তার ভাষায়, ইসরায়েল, রাশিয়া বা অন্য কোনো দেশ এমন চেষ্টা করলে সেটি আমাকে বিচলিত করে না। ২০২৬ সালের একজন রাজনৈতিক নেতার জন্য এটি স্বাভাবিক বাস্তবতা।
তিনি বলেন, যখন এসব প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে শুরু করে, তখন সেটিই উদ্বেগের বিষয়।
গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে যে সমঝোতা হয়েছিল, তার পক্ষে অবস্থান নেন ভ্যান্স।
চুক্তিটির সমালোচকেরা দাবি করেছেন, এতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার ব্যবস্থা নেই এবং দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলো বিলুপ্ত করারও স্পষ্ট রূপরেখা নেই। পাশাপাশি এটি লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডেও সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে বলে তাদের অভিযোগ।
সাক্ষাৎকারে ভ্যান্সকে প্রশ্ন করা হয়, ইসরায়েলের প্রভাব না থাকলে যুক্তরাষ্ট্র কি সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধে জড়াত? জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি তাই মনে করি।
তার ব্যাখ্যা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয় এবং তিনি নিজেও এ অবস্থানের সঙ্গে একমত।
ভ্যান্স দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ ভণ্ডুল করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুপরিকল্পিত প্রচারণা চালানো হয়েছে।
তিনি টাইম সাময়িকীর একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলেন, সেখানে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্পের ২০২০ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সাবেক কর্মকর্তা ব্র্যাড পারস্কেলের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট কিছু পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের কার্যক্রমে অর্থায়ন করেছে।
ভ্যান্সের ভাষায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা, সাংবাদিকদের কাছে তথ্য ফাঁস করা এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করে অনির্দিষ্টকাল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছিল। এটিই ছিল তাদের প্রকাশ্য অবস্থান।
এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও একমত যে বিদেশি দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। তার ভাষায়, এটি একটি বাস্তবতা, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
.png)






