তরুণের মরদেহে থাকা চিরকুট সূত্রে হত্যার রহস্য উন্মোচন পুলিশের

পঞ্চগড়ের মহারাজার দিঘী থেকে মানিক হোসেন (১৯) নামে এক তরুণের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন সমলা আক্তার (২৪) এবং শাহাবুদ্দিন (৪৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফরহাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, সমলা আক্তার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের মহারাজার দিঘী থেকে মানিক হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের কোমরে একটি চিরকুট পাওয়া যায়, যেখানে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়েছিল। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মালেক হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
পুলিশের ভাষ্য, তদন্তে নিহতের বোনের কক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ক্যালেন্ডারের পাতার লেখার সঙ্গে মরদেহে পাওয়া চিরকুটের লেখার মিল পাওয়া যায়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের মা ও বোনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সমলা আক্তার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি পুলিশের। পরে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তার মাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, পারিবারিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত প্রতিশোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী নিহতকে মহারাজার দিঘী এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর শাহাবুদ্দিন তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ পানিতে ফেলে দেন। ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহের সঙ্গে একটি চিরকুটও রেখে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ঘটনাস্থলের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
তবে পুলিশের এসব তথ্য তদন্ত এবং আদালতে দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে জানানো হয়েছে। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের সিদ্ধান্তই এ ঘটনার চূড়ান্ত আইনগত অবস্থান নির্ধারণ করবে।
.png)






