ইরানে টানা ষষ্ঠ রাতের মতো মার্কিন হামলা, নিহত ২

ইরানে টানা ষষ্ঠ রাতের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলায় দুইজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে সর্বশেষ দফার হামলা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী এদিকে হামলা অব্যাহত থাকলে সংঘাত আরও নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, এই সময়ে কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, চাবাহার, ইরানশাহর ও বান্দার-ই-খামিরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বন্দর আব্বাসের কেহভারস্তান সেতুতে এবং একটি আবাসিক এলাকায় চালানো মার্কিন হামলায় দুজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন।
ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়, ইরানশাহরের একটি বিমানবন্দরে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। পাশাপাশি বন্দর আব্বাসের একটি যোগাযোগ টাওয়ারে হামলার ফলে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
গত মাসে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে। গত এক সপ্তাহে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করে, বাহরাইনে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটিতে তারা হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্য, আহভাজ শহরের একটি শিশু ক্যান্সার হাসপাতাল খালি করতে বাধ্য করা মার্কিন হামলার জবাব হিসেবে এ আক্রমণ চালানো হয়েছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, কুয়েত ও জর্ডানেও হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ৩২টি ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে কিছু অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আক্রমিনিয়া সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়ে গেলে ইরানের পাল্টা আক্রমণ আরও নতুন এলাকায় বিস্তৃত হবে।
আলজাজিরার দোহাভিত্তিক প্রতিবেদক আকসেল জায়মোভিচ জানান, চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে।
সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান আলোচনায় না ফিরলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। এর জবাবে ইরানের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি আঞ্চলিক অবকাঠামোয় ‘বিধ্বংসী’ পাল্টা হামলার হুমকি দেন।
তবে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস কিছুটা কূটনৈতিক অবস্থান নেয়। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনবেন, তবে একই সঙ্গে কূটনীতির পথও খোলা রাখতে চান।
তিনি বলেন, ইরানি কর্মকর্তারা এখনো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি। তবে প্রণালিতে জাহাজে হামলা চালিয়ে কোনো পরিণতি ছাড়াই পার পেয়ে যেতে দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা শুরুর পরিকল্পনা নেই। তাদের প্রধান লক্ষ্য এখন দেশের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা।
জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সহকারী অধ্যাপক সিনা আজোদি মনে করেন, উভয় পক্ষই প্রতিপক্ষকে নিজেদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে।
তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান আলোচনায় ফিরে এসে ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে নিক। আর ইরান চাইছে, যুক্তরাষ্ট্র আগে অবরোধ তুলে নিক এবং আগের সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করুক।
.png)






