কানাডাজুড়ে ৮৫০টির বেশি দাবানল, ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রেও

কানাডাজুড়ে ৮৫০টির বেশি স্থানে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এসব দাবানলের ধোঁয়ায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণের শিকার হয়েছে কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টো।
কানাডিয়ান ওয়াইল্ডল্যান্ড ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) পর্যন্ত সারা দেশে ৮৫০টির বেশি দাবানল সক্রিয় রয়েছে। দাবানলের ধোঁয়ায় টরন্টোসহ দক্ষিণ অন্টারিওর বিস্তীর্ণ এলাকায় বায়ুর মান মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে।
এ অবস্থায় দেশটির পরিবেশ বিভাগ টরন্টো ও দক্ষিণ অন্টারিওর বেশির ভাগ এলাকায় ‘অরেঞ্জ’ সতর্কতা জারি করেছে। বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে যতটা সম্ভব ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দাবানলের ধোঁয়ায় থাকা বিষাক্ত গ্যাস ফুসফুস ও রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক এবং হাঁপানির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।
দাবানলের কারণে অন্টারিওসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকটি এলাকার মানুষ সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিছু দাবানল বজ্রপাতের কারণে এবং কিছু মানুষের অসাবধানতার কারণে সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি উত্তর অন্টারিওতে, যেখানে ১৩৬টি দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।
চলতি বছর অন্টারিওতে দাবানলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮৩টিতে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের ৩৫১টির তুলনায় অনেক বেশি। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজে সহায়তার জন্য ফেডারেল সরকারের কাছে বিমান প্রস্তুত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে অন্টারিও সরকার।
দাবানলের ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যেও পৌঁছেছে। এতে সেখানে বায়ুর মানও খারাপ হয়েছে।
এ ঘটনায় মিশিগানের রিপাবলিকান দলের চার সদস্য কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে চিঠি দিয়ে দাবানল নিয়ন্ত্রণে কানাডার কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন।
চিঠিতে তারা বলেন, দাবানল নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।
মার্কিন আইনপ্রণেতাদের দাবি, টানা তৃতীয় বছরের মতো দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে তারা কানাডা সরকারের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
.png)






