মিসরের বন্দরে দুই জাহাজে আগুনের নেপথ্যে ড্রোনের হামলা

মিসরের দামিয়েত্তা বন্দরে ড্রোন হামলার পর গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণে ব্যবহৃত দুটি জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
বুধবার (২৯ জুলাই) হামলার পর মিসরের তেল মন্ত্রণালয় জানায়, জরুরি সাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক বিবৃতিতে মিসরের মন্ত্রিসভা জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, একটি ড্রোনের আঘাতেই দুটি জাহাজে আগুন লাগে। তবে এ হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন স্বীকার করেনি।
সরকার জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টতা নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ হামলার সঙ্গে তেহরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, মিসর ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু এবং দেশটির নিরাপত্তা তেহরানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি সম্ভাব্য ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ বা বিভ্রান্তিমূলক অভিযানের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এদিকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরাও হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। হুথি-নিয়ন্ত্রিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এ ঘটনায় তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তাদের সামরিক অভিযান নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয় এবং লোহিত সাগরে নৌ চলাচল নিরাপদ রয়েছে। তাই এ বিষয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেও দাবি করে তারা।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রে জানায়, হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন ও পরিচালিত, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী একটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সংরক্ষণ জাহাজে বিস্ফোরণ ঘটে। পরে জাহাজটির ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
আন্তর্জাতিক শিপিং সেবা প্রতিষ্ঠান ইনচকেপও বন্দরের এলএনজি টার্মিনালে বিস্ফোরণের তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ছাড়া বন্দরের অন্যান্য টার্মিনাল ও জেটিতে রাতের মধ্যেই কার্যক্রম পুনরায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, এ ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন কয়েক দিনের বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে।
.png)






