বিমানবন্দরের নাম পাল্টে নিজের নাম দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আমেরিকার ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের নামে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নামকরণ করা হলো। দক্ষিণ ফ্লোরিডার বিখ্যাত পাম বিচ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট’। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থেকে বিমানবন্দরটিতে নতুন নামের সাইনবোর্ড ও ব্র্যান্ডিং বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, নতুন এই নামকরণের পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। এছাড়া আগামী ১৮ আগস্ট থেকে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক তিন অক্ষরের কোড ‘পিবিআিই’ থেকে বদলে গিয়ে প্রেসিডেন্টের নামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী ‘ডিজেআই’ করা হবে।
নিজের নামে এই নামকরণের পর ট্রুথ সোশ্যালে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এ নামাকরনকে এক ‘বিশাল সম্মান’ হিসেবে উল্লেখ করে পাম বিচবাসীকে ধন্যবাদ জানান এবং প্রতিশ্রুতি দেন, এর সংস্কার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর এটি বিশ্বের অন্যতম সেরা ও দৃষ্টিনন্দন বিমানবন্দরে পরিণত হবে।
নতুন নামকরনের পর এই বিমানবন্দরে অবতরণ করা প্রথম উড়োজাহাজটি ছিল ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের নিজস্ব বোয়িং ৭৫৭ বিমান, যা ‘ট্রাম্প ফোর্স ওয়ান’ নামে পরিচিত। বিমানটিতে করে সেখানে পৌঁছান ট্রাম্পের ছেলে এরিক ট্রাম্প।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে এরিক বলেন, ফ্লোরিডা ও দেশের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে বেশি অবদান আর কেউ রাখেননি, তাই তিনি এই সম্মানের শতভাগ যোগ্য। একজন সন্তান ও নিয়মিত যাত্রী হিসেবে বোর্ডিং পাসে ‘ডিজেটি’ লেখা দেখতে পাওয়াটা তার জন্য সবসময় গর্বের হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চলতি বছরের শুরুতে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস এই সংক্রান্ত একটি বিলে স্বাক্ষর করেন। নতুন সাইনবোর্ড ও ব্র্যান্ডিংয়ের এই পুরো রূপান্তরে প্রায় ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় হবে। মার-এ-লাগো বাসভবনে যাওয়ার সময় ট্রাম্প পরিবার নিয়মিত এই বিমানবন্দরটি ব্যবহার করে থাকে। এর আগে গত জানুয়ারিতে এই বিমানবন্দর থেকে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত এস্টেট পর্যন্ত সড়কটির নাম বদলে ‘ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প বুলেভার্ড’ রাখা হয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামে সম্মাননা কেবল ফ্লোরিডাতে সীমাবদ্ধ নেই। বৃহস্পতিবার টেনেসির ড্যানড্রিজে দেশটির অর্থসচিব স্কট বেসেন্টসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানে পূর্ব টেনেসির আই-৪০ সেতুর নাম বদলে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ডোনাল্ড জে ট্রাম্প ব্রিজ’ রাখা হয়েছে।
২০২৪ সালের নির্বাচনে এই অঞ্চলে ট্রাম্প ৮২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন উল্লেখ করে স্কট বেসেন্ট বলেন, এই সম্মানের জন্য ট্রাম্পের চেয়ে যোগ্য ব্যক্তি আর কেউ হতে পারে না। এছাড়া আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ট্রাম্পের প্রতিকৃতি ও স্বাক্ষর সম্বলিত এবং মলাটে সোনালী অক্ষরে যুক্তরাষ্ট্রের নাম লেখা বিশেষ স্মারক পাসপোর্ট বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।
সূত্র: স্কাই নিউজ




