ইরানে সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক হামলা, নাকচ করল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন করে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এই নতুন হামলার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত থাকার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গভীর রাতে বুশেহর এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়। ওই এলাকায় ইরানের অন্যতম প্রধান পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র অবস্থিত। এছাড়া বুশেহরের কাছাকাছি চোগাদাক শহর এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় কোনারক শহরে আরও তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।
এদিকে এ হামলার দায় অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ঘটনার পরপর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আলজাজিরাকে নিশ্চিত করেছে, গত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মার্কিন বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়নি।
গত মঙ্গলবার থেকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। জুনের মাঝামাঝি সময়ে হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে তেহরান কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
ইরানের বার্তা সংস্থা এই বিস্ফোরণগুলোর মূল কারণ, ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি। তবে বন্দর আব্বাস শহরে বিস্ফোরণে খবর নাকচ করে দিয়েছে ইরান।
ওদিকে বুশেহরের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক ডেপুটি গভর্নর এহসান জাহানিয়ান রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম ইরনাকে জানান, শহরের আকাশে সচল হওয়া বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে ওই শব্দ হয়েছিল। তবে তিনি স্বীকার করেন, বুশেহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি সামরিক সদর দপ্তরে শত্রুপক্ষের ছোঁড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলা এসে আঘাত হেনেছে।
ইরানে এই রহস্যময় বিস্ফোরণের ঠিক পরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক পদক্ষেপের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে দুই দেশের সামরিক সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
এর আগে দক্ষিণ ইসরায়েলের হাতজেরিম বিমান ঘাঁটির এক অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি, সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ আসছে।
একই অনুষ্ঠানে ইসরায়েলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির মাঠ পর্যায়ের সেনাদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের টেবিলে নতুন পরিকল্পনা তৈরি আছে। সামনে বড় ধরনের সামরিক অভিযান ধেয়ে আসছে, তাই সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
এছাড়া ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আকাশ সীমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে এবং হুমকি মোকাবিলা করতে প্রয়োজনে তৃতীয়বারের মতো ইরানে সরাসরি হামলা চালাতে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।




