যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা’র তালিকা থেকে বাদ পড়ছে সিরিয়া

সিরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় মদদদাতা’র কালো তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে ট্রাম্প এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন।
বুধবার (৮ জুলাই) সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট শারার কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে ট্রাম্প লিখেছেন, সিরিয়া পুনর্গঠনের সব বাধা দূর করার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা খুব শিগগিরই পূরণ হতে যাচ্ছে। সিরিয়ায় বিনিয়োগ করতে এবং দেশটিকে আগের চেয়ে আরও বেশি সমৃদ্ধ করে তুলতে মার্কিন কোম্পানিগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি চিঠিতে আশ্বস্ত করেন।
এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে কার্যকর করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন। মার্কিন আইন অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়নের আগে কংগ্রেস ৪৫ দিনব্যাপী একটি পর্যালোচনা প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে। এই তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম বাদ পড়লে দেশটির ওপর থাকা মার্কিন বিদেশি সহায়তা, প্রতিরক্ষা রপ্তানি এবং নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক লেনদেনের ওপর দীর্ঘদিনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি উঠে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে সিরিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নর সাফওয়াত রাসলান এক বার্তায় জানান, এর ফলে সিরিয়ায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের বিশাল দুয়ার উন্মোচিত হবে। এটি দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করবে এবং বিশ্ব অর্থনীতির মূলধারার সঙ্গে সিরিয়ার পুনরায় যুক্ত হওয়ার পথ সুগম করবে।
উল্লেখ্য, গত বছরই এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সিরিয়ার ওপর থাকা মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। নতুন এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সৌদি আরবসহ বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনে শত কোটি ডলারের বড় বিনিয়োগ ও আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা করছে।
বৈঠকে সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন ট্রাম্প। আহমেদ আল-শারা একসময় সিরিয়ায় আল-কায়েদার একটি উপদলের কমান্ডার হিসেবে যুক্ত থাকলেও ২০১৬ সালে তিনি সেই সম্পর্ক পুরোপুরি ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের শেষের দিকে একটি ইসলামপন্থী বিদ্রোহী জোটের সফল নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দীর্ঘদিনের বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন ঘটান।
অঞ্চলটিতে উগ্রপন্থী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে শারার সাম্প্রতিক কঠোর অভিযানের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, শারা আন্তর্জাতিক মহলে সবার কাছেই অত্যন্ত সম্মানিত একজন ব্যক্তি।
দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক পর যুক্তরাষ্ট্রের এই কালো তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম বাদ পড়তে যাচ্ছে; যার ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক একাকীত্বের অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।





