সাবমেরিন থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল চীন

প্রশান্ত মহাসাগরে সাবমেরিন থেকে একটি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (এসএলবিএম) পরীক্ষা চালিয়েছে চীন।
চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) নৌবাহিনীর মুখপাত্র সিনিয়র ক্যাপ্টেন ওয়াং শুয়েমেং এক বিবৃতিতে জানান, সোমবার (৬ জুলাই) সাবমেরিন থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয়েছে। তবে, ক্ষেপণাস্ত্রটিতে প্রকৃত পারমাণবিক ওয়ারহেডের পরিবর্তে একটি ডামি ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়েছিল। এটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানে।
ওয়াং বলেন, এটি চীনের বার্ষিক সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে নিয়মিত একটি পরীক্ষা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল।
তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত নিয়ম মেনেই এ পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি।
তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ফেডারেটেড স্টেটস অব মাইক্রোনেশিয়া, নাউরু, কিরিবাতি ও টুভালুর এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (ইইজেড) ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে কিরিবাতি বা টুভালুর ইইজেড সীমান্তসংলগ্ন সমুদ্রে গিয়ে পড়ে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তমহাদেশীয় পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেছে।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ, চীনের দ্রুত এবং অস্বচ্ছ পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি এই অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তারা বেইজিংকে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অর্থবহ আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
কী ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছে, তা বেইজিং জানায়নি। সিএনএন এই পরীক্ষা প্রসঙ্গে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে মন্তব্য জানতে চেয়েছে।
তবে সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, চীনের নৌবাহিনীর হাতে জেএল-২ ও জেএল-৩ নামে সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে জেএল-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতই দীর্ঘ যে দক্ষিণ চীন সাগর থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম।
চীনের প্রধান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন হলো টাইপ-০৯৪ বা ‘জিন’ শ্রেণির সাবমেরিন। বর্তমানে দেশটির নৌবাহিনীর বহরে এ ধরনের ছয়টি সাবমেরিন রয়েছে।
বেইজিং তার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার খবর খুব কমই প্রকাশ করে। কিন্তু সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) মিসাইল ডিফেন্স প্রজেক্ট অনুসারে, জেএল-৩ ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রথম ২০১৮ সালে এবং তার এক বছর পর আবার পরীক্ষা করা হয়েছিল।
নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স বলেন, চীন এমন একটি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে, যা ১৯৮৬ সালের রারোটোঙ্গা চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
তিনি বলেন, চীন আমাদের আগেই জানিয়েছিল যে তারা দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে একটি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করবে। তবে আমরা এ পদক্ষেপকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছি। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহারে আমাদের বা আমাদের প্রতিবেশীদের কোনো আগ্রহ নেই।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ংও এ পরীক্ষাকে ‘অঞ্চলের জন্য অস্থিতিশীলতামূলক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার ভাষায়, চীনের দ্রুত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং সেই কার্যক্রমে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতার অভাব আঞ্চলিক দেশগুলোর উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এ ছাড়া জাপান সরকার চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। তাইওয়ানও এ উৎক্ষেপণের সমালোচনা করে বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের সম্প্রসারণবাদী আকাঙ্ক্ষাকে আরও স্পষ্ট করেছে।





