উন্নয়ন টেকসই করতে হলে নারীদেরও স্বাবলম্বী বানাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

দেশের উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ লক্ষ্যে নারীদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি মেধাবী ছাত্রীদের বৃত্তি দেওয়া হবে।
আজ সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাটাজোড় অশ্বিনী কুমার ইনস্টিটিউশন মাঠে ফ্যামিলি কার্ড উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে দেশের চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারপ্রধান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মেয়েদের জন্য প্রথম শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার স্নাতক পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার সুযোগ চালু করবে। যেসব ছাত্রী ভালো ফল করবে, তাদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে।
নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এর মাধ্যমে পরিবারের নারীপ্রধানদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা সংসারের প্রয়োজন মেটাতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যে বাজেট পেয়েছিল, তাতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য কোনো বরাদ্দ ছিল না। তবে নতুন বাজেটে এ কর্মসূচির জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী জুনের মধ্যে সারা দেশে ৪১ লাখ পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। গড়ে প্রতিটি উপজেলায় প্রায় সাত হাজার পরিবার এ সুবিধা পাবে। পরবর্তী বছরগুলোতে পর্যায়ক্রমে আরও পরিবার এই কর্মসূচির আওতায় আসবে।
তারেক রহমান বলেন, দেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। সেই ঐতিহ্য ধরে রেখে মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায় সরকার।
মতবিনিময় সভায় কয়েকজন উপকারভোগী নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সরিকল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পারুল আক্তার বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পর সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানো সহজ হয়েছে এবং পরিবারের খাদ্যসংকট অনেকটাই কমেছে। এ সময় তিনি ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ছয় লেন মহাসড়ক নির্মাণের দাবি জানান।
আরেক উপকারভোগী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ দিয়ে পরিবারের প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে পারছেন। পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালনও শুরু করেছেন। আরেক নারী উল্লেখ করেন, এই সহায়তার অর্থে তিনি সন্তানের পড়াশোনার খরচ বহন করতে পারছেন এবং সংসারের অন্যান্য প্রয়োজনও মেটাতে সুবিধা হচ্ছে।
এর আগে তিনি গৌরনদীর বাটাজোড় সরিকল খালের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে একযোগে প্রায় আড়াই হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল নগরীর সাগরদী খালের পাশের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশে রওনা হন।





