মাদক সংশ্লিষ্টতায় যুবদল নেতা আটক, ডোপ টেস্টে অস্বীকৃতি ও থানা ঘেরাও

পাবনার সুজানগরে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিউল আলম বাবুকে (৪২) আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর তাকে মুক্তির দাবিতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে রাতেই তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে উপজেলা গেটসংলগ্ন একটি দোকান থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক শফিউল আলম বাবু সুজানগর পৌরসভার চর মানিকদীর এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যার দিকে বাবুকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার অনুসারী ও দলীয় নেতাকর্মীরা সুজানগর থানার সামনে অবস্থান নেন। রাত ৯টা পর্যন্ত তারা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভা করেন।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, বিক্ষোভকারীদের সামনেই আটক যুবদল নেতার ডোপ টেস্ট করার উদ্যোগ নেয় পুলিশ। কিন্তু তার পরিবারের সদস্যরা এতে অস্বীকৃতি জানান। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিক্ষোভকারী নেতাকর্মীরা থানা এলাকা ছেড়ে চলে যান। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত ৩টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় শফিউল আলম বাবুকে আদালতে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদক সংশ্লিষ্টতার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দেড় মাস আগে সুজানগর পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে পুলিশের হেফাজতে থাকা দুই মাদক মামলার আসামিকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় শফিউল আলম বাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনাটি তখন এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।
তবে এসব অভিযোগ ও আটকের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শফিউল আলম বাবুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে পাবনা জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াস আহমেদ হিমেল রানা বলেন, ‘আমরা নিজেরাই মাদকমুক্ত দেশ গড়তে কাজ করছি। কেউ যদি মাদকের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং পুলিশ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ ক্ষেত্রে আমরা পুলিশকে সহযোগিতা করব। কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় যুবদল নেবে না।’
সুজানগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘মাদক সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে শফিউল আলম বাবুকে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ডোপ টেস্ট শেষে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পূর্বে পুলিশের কাছ থেকে মাদক মামলার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ওসি বলেন, ‘ওই ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং আসামিদের পক্ষে কিছুটা সুপারিশ করেছিলেন।’





