সিলেটে ২১ দিন পর নতুন ডিসি

সিলেটে যোগদান করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবদুল্লাহ আল মামুন। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টায় তিনি দায়িত্ব বুঝে নেন।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহা তাকে এই দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার সকাল ১০টায় নতুন জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এরপর তিনি সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে সভা করেছেন।
এর মধ্য দিয়ে ২১ দিনের মাথায় নতুন ডিসি পেল সিলেট। এর আগে গত ২১ জুন আলোচিত ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ২২ জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে বিদায় নেন তিনি।
তাকে প্রত্যাহারের প্রতিবাদে সিলেটজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছে একাধিক ব্যানারে। এরপর ২৮ জুন কুমিল্লার ডিসি মু. রেজা হাসানকে সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলি করা হলেও যোগদানের আগেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সবশেষ গত ৯ জুলাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপসচিব আবদুল্লাহ আল মামুনকে সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম তার দায়িত্ব পালনকালে একাধিক ইস্যুতে ব্যবস্থা নিয়ে আলোচিত হন। পাথর লুটপাট কাণ্ডের ঘটনা সারা দেশে আলোচিত হলে তিনি সিলেটে যোগদান করেন এবং এরপর কয়েক লাখ ঘনফুট সাদাপাথর প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নেন।
রেলের টিকিট কালোবাজারি ধরা, হকার উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন, বিমানভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং সবশেষ হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনার জন্য তার উদ্যোগ দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
গত ১২ জুন মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার ঘোষণা দেন সারওয়ার আলম। ১৮ জুন মাজারের পুরোনো দানবাক্সের পাশাপাশি নতুন দানবাক্স স্থাপন করে সেগুলো নির্দিষ্ট সময়ে খোলে টাকা গণনার উদ্যোগ নেন তিনি।
এই উদ্যোগ নিয়ে জনমনে তৈরি হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একদল এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও অন্য একটি অংশ প্রশাসনের মাধ্যমে দান ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সমালোচনা করেন।
এর মধ্যে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হলে তিনি সিলেট ছাড়ার আগে ২২ জুন তালা খুলে চার দিনে জমা পড়া টাকা উন্মুক্ত গণনা করে হিসাব প্রকাশ করেন। পরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্ব কমিটি মাজারের দানবাক্সের হিসাব নিশ্চিত করার উদ্যোগটি অব্যাহত রাখে এবং গত ১১ জুলাই মাজারে দ্বিতীয় দফায় প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনা করা হয়।





