Advertisement

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার পদত্যাগ করছেন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার পদত্যাগ করছেন
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। এদিন দুপুর নাগাদ পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন বঙ্গভবনের কর্মকর্তারা। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় স্টার নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই পরীক্ষায় তার নিউরো কেন্দ্রিক জটিল রোগ ধরা পড়েছে। তাই পদত্যাগ করে স্ত্রীসহ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য যেতে চান মো. সাহাবুদ্দিন।

সংবিধান মতে, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে কেউ অপারগতা প্রকাশ করলে, স্পিকারের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। পদশূন্য হলে স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে আসবেন নতুন রাষ্ট্রপতি।

এর আগে চলতি বছরের ৯ মে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান। চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ফলোআপ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন তিনি। চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ৯ দিন পর ১৮ মে দেশে ফেরেন তিনি।

কিন্তু রাষ্ট্রপ্রতির সেখানে যাওয়া ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে আরও স্পর্শকাতর তথ্য।

সেখানে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। পরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওই ফোনালাপের বিষয়টি জানতে পারে। এরপরই তাকে পদত্যাগের বার্তা দেয় বিএনপি সরকার।

তবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার ফোনালাপ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।

এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধানে সে সুযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে পদত্যাগের গুঞ্জন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, আপাতত এটি শুধু গুঞ্জন। যদি বিষয়টি বাস্তবে ঘটে, তখন সেটি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও আলোচনা হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলে, রাষ্ট্রপতি পদে মো. সাহাবুদ্দিনের থাকা-না থাকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। তবে সংবিধান রক্ষায় তার কাছেই শপথ নেয়, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। পরে ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপিও মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নিয়ে সরকার গঠন করে।

এই দুই বছরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতসহ বিভিন্ন পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবি তোলে। কিন্তু তাতে সায় দেয়নি বিএনপি। উল্টো সাহাবুদ্দিনকে রাখতে জোর ভূমিকা রাখে তারা। তবে এবার পাল্টে যাচ্ছে দৃশ্যপট।