মিটফোর্ডে চিকিৎসকদের ওপর হামলা: প্রতিরোধের মুখে বাথরুমে লুকালেন জবি ছাত্রদল আহ্বায়ক

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (এসএসএমসি) মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চিকিৎসকদের প্রতিরোধের মুখে হাসপাতালের বাথরুমে আশ্রয় নেন হিমেল। পরে পুলিশের তৎপরতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত আড়াইটার দিকে হাসপাতালের সার্জারি ভবনের চতুর্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হিমেলের সঙ্গে আরও ১০ থেকে ১২ জন উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
বিবৃতিতে এসএসএমসি মিটফোর্ড হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) জানিয়েছে, ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি মিটফোর্ড হাসপাতালের সার্জারি বিল্ডিংয়ের ৪২৯ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করে সহকারী রেজিস্ট্রার, ট্রেইনি ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা মিটফোর্ড হাসপাতালের সমগ্র ইন্টার্ন চিকিৎসক সমাজ ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গত ১ মার্চ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানানো হলেও প্রায় চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
এ ঘটনায় চার দফা দাবিও জানিয়েছে আইডিএ। দাবিগুলো হলো, প্রতিটি ওয়ার্ড ইউনিটের বাইরে অন্তত চারজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করতে হবে, হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোয় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সার্জারি বিভাগে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জরুরি বিভাগসহ সব বিভাগে কর্মবিরতি পালন করা হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত এ কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ডা. দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, রাত ২টার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আহ্বায়কসহ ১০ থেকে ১২ জন একজন রোগী নিয়ে আসেন। তখন দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকরা নিয়ম অনুযায়ী তাদের টিকিট কাটতে বলেন। এ কথা বলার পর হিমেল উত্তেজিত হয়ে বলেন, কোনো টিকিট কাটতে হবে না, তিনি জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক।
তিনি বলেন, চিকিৎসকরা বিষয়টি বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করলে হিমেল এক চিকিৎসকের কলার ধরে চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করেন। পরে পাশে থাকা আরও দুই চিকিৎসক এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তারা ওই কক্ষের দরজা বন্ধ করে চিকিৎসকদের মারধর করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে হাসপাতালের অন্য ওয়ার্ডের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা এগিয়ে আসেন। তখন তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে হিমেল বাথরুমে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
ডা. দেবাশীষ চক্রবর্তী আরও বলেন, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় হাসপাতালের ভেতরে বহিরাগতরা এসে চিকিৎসকদের ওপর হামলা করবে, তা মেনে নেওয়া হবে না। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। তিনি চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান।
ঘটনার বিষয়ে হিমেলের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো ধরনের নিউজ না করতে অনুরোধ জানান। প্রয়োজনে তিনি (হিমেল) অফিসের সঙ্গে কথা বলবেন যেন নিউজ না হয়। শিবিরের ফাঁদে পা দিয়ে সাংবাদিকরা যেন নিউজ না করে, সে পরামর্শও দেন তিনি।
ঘটনা বিষয়ে আবার জানতে চাইলে গতকাল রাতে কী হয়েছে, পরে সাক্ষাতে বুঝিয়ে বলার কথা বলেন তিনি। বিষয়টি সমাধানের দিকে আমরা যাচ্ছি বলে তিনি ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, রাত আড়াইটার দিকে হাসপাতালে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং ভেতরে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার করে। বর্তমানে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি।





