৪৫০০ পিস ইয়াবাসহ বদির ফুপাতো বোনের জামাই আটক

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী মেরিন ড্রাইভ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে চার হাজার ৫০০ ইয়াবাসহ মো. হাফেজ উল্লাহ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির ফুফাতো বোনের জামাই।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড চট্টগ্রাম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার বিএন সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আটক হাফেজ উল্লাহ টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডেইলপাড়া এলাকার মৃত তমিম গোলালের ছেলে। তিনি টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
কোস্টগার্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড স্টেশন ইনানীর একটি বিশেষ দল ইনানী মেরিন ড্রাইভ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি সৈকত যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে সন্দেহভাজন যাত্রী হাফেজ উল্লাহর এর কোমরে মোড়ানো অবস্থায় ৪ হাজার ৫০০ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
কোস্টগার্ড জানায়, উদ্ধার করা ইয়াবা এবং আটক ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মাদক পাচারের অভিযোগে এর আগে ২০২৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে হাফেজ উল্লাহকে আটক করা হয়েছিল। পরে বাসের মালামাল রাখার সাইডবক্সে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ তল্লাশি করে পাঁচ হাজার ১৮৫টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১৬ লাখ টাকা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাফেজ উল্লাহ স্বীকার করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করতেন। পরে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে কর্ণফুলী থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল বশর বলেন, হাফেজ উল্লাহ সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির ফুফাতো বোনের জামাই। তিনি ২০১৪ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে পুরোনো কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকে তিনি দলের কোনো কমিটিতে ছিলেন না। বর্তমানে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের কোনো পদেও তিনি নেই।
.png)






