মাগরিবের পর ঘুমানো কি জায়েজ

আল্লাহ তাআলার অশেষ নেয়ামতের অন্যতম নেয়ামত ঘুম। ঘুম মানুষের ক্লান্তি দূর করে। সুস্থ-সুন্দর ও সুঠাম দেহ বা জীবন লাভের জন্য ঘুম খুব জরুরি। দেহের জন্য খাবার যেমন প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন পরিমিত ঘুম। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আমি তোমাদের বিশ্রামের জন্য নিদ্রা দিয়েছি। তোমাদের জন্য রাতকে করেছি আবরণস্বরূপ। দিনকে বানিয়েছি তোমাদের কাজের জন্য।’ (সুরা নাবা, আয়াত: ৯-১১)
আল্লাহ রাত দিয়েছেন ঘুমানোর জন্য। কোরআনে আছে, ‘আর তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে করেছেন আবরণস্বরূপ, বিশ্রামের জন্য তোমাদের দিয়েছেন নিদ্রা এবং ছড়িয়ে পড়ার জন্য করেছেন দিন।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত: ৪৭)
আল্লাহর হুকুম ও হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নত মোতাবেক ঘুমালে এটি ইবাদতও হয়। মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বলেন, ‘আমি (রাতে) ঘুমাই এবং জেগে নামাজ আদায় করি। জেগে থেকে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে যেভাবে সওয়াবের আশা করি, ঠিক তেমনি ঘুমানোর মাধ্যমেও সওয়াবের আশা করি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৯৯৮)
কোরআনে রাতকে ঘুমের সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দিনেও ঘুমানো যায়। তবে কিছু সময় না ঘুমাতে উৎসাহিত করা হয়েছে হাদিসে। যেমন, ফজর, আসর ও মাগরিবের পর।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) কখনও মাগরিবের পর ঘুমাতেন না। এশা নামাজের পর তিনি দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি কখনও মহানবী (সা.)-কে এশার আগে ঘুমাতে দেখেনি এবং এশার পর অহেতুক কথাবার্তায় মশগুল দেখেনি।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৭০২)
মাগরিবের পর ঘুমালে এশার নামাজ কাজা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ছাড়া এ সময় দোয়া, জিকির ও এশার জামাতের ফজিলত রয়েছে। আবু বারজা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) এশার আগে ঘুমানো এবং এশার পর কথোপকথনে মশগুল হওয়া অপছন্দ করতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৮)
সন্ধ্যার মুহূর্তটি ঘুমের সময় নয়, এশার নামাজের প্রস্তুতির সময়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুনাফিকদের জন্য ফজর ও এশার নামাজের চেয়ে ভারী কোনো নামাজ নেই। এ দুই নামাজের ফজিলত যদি তারা জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা উপস্থিত হতো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৫৭)
স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও খাবারের পর ঘুমানো উচিত নয়। খাবারের পর ঘুমালে পরিপাক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে। আধুনিক বিজ্ঞানও সন্ধ্যায় গভীর ঘুমের ক্ষতি ও ক্লান্তি বৃদ্ধি নিশ্চিত করেছে।
ইসলাম বিশেষজ্ঞরা বলেন, মাগরিবের পর পরই ঘুমানো উচিত নয়। কারণ, এ সময় যারা ঘুমান, তাদের অধিকাংশই এশার নামাজ আদায় করতে পারেন না। তাই বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া এ সময়ের ঘুম পরিহার করা একান্ত কর্তব্য।
.png)





