Advertisement

কাঁচা পেঁয়াজ খেয়ে মসজিদে যাওয়া যাবে?

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
কাঁচা পেঁয়াজ খেয়ে মসজিদে যাওয়া যাবে?
শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ, সংযুক্ত আরব আমিরাত। ছবি: সংগৃহীত

মসজিদ মুসল্লিদের ইবাদতের কেন্দ্রস্থল। আল্লাহর প্রিয় জায়গা। সবসময় মসজিদের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। হজরত মুহাম্মদ (সা.) মসজিদ পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেষ্ট থাকতেন। সব মুসলমান যেন মসজিদে সমবেত হয়ে জামাতে নামাজ আদায় করে, সেদিকে গুরুত্বারোপ করেছেন মহানবী (সা.)। তাই দুর্গন্ধ নিয়ে মসজিদে আসতে নিষেধ করেছেন তিনি।

দুর্গন্ধ আসে বিশেষ কিছু খাবার খাওয়ার কারণে। এ তালিকায় আছে পেঁয়াজ, দুর্গন্ধ তৈরি করা পেঁয়াজজাতীয় সবজি ও রসুন ইত্যাদি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে এসব রসুনের তরকারি খাবে (কখনও বলেছেন) যে পেঁয়াজ, রসুন ও কুররাস (গন্ধে ও স্বাদে পেঁয়াজজাতীয় সবজিবিশেষ) খাবে, সে যেন আমাদের মসজিদের কাছে না আসে। কেননা আদমসন্তান যা দিয়ে কষ্ট পায়, ফেরেশতারাও তা দিয়ে কষ্ট পান।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৬৩)

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেউ যদি এ জাতীয় গাছ থেকে খায়—তিনি রসুন বুঝিয়েছেন—সে যেন আমাদের মসজিদে না আসে।’ (আতা রহ. বলেন) ‘আমি জাবের (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসুল (সা.) এর দ্বারা কী বুঝিয়েছেন?’ জাবের (রা.) বললেন, ‘আমার ধারণা, রাসুল (সা.) এর দ্বারা কাঁচা রসুন বুঝিয়েছেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৫৪)

শরীরে বা মুখে দুর্গন্ধ থাকলে মসজিদে আসা যাবে না। দুর্গন্ধ দূর করে মসজিদে আসতে হবে। কুররা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি খেতেই হয়, তবে তোমরা তা রান্না করে দুর্গন্ধ দূর করে খাবে। বর্ণনাকারী বলেন, তা হলো রসুন ও পেঁয়াজ।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮২৭)। কারণ, রান্না করলে দুর্গন্ধ প্রায় চলে যায়। সুতরাং মসজিদে কাঁচা পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি দুর্গন্ধ জাতীয় জিনিস না খেয়ে যাওয়া উত্তম।

হাদিসে আছে, এক সাহাবি বলেন, ‘খাইবার বিজয়ের পর আমরা তখনও ফিরে আসতে পারিনি। এদিকে আমরা রসুন ইত্যাদি সবজি খেতে শুরু করলাম। সবাই ভীষণ ক্ষুধার্ত ছিল। আমরা খুব খেলাম। এরপর মসজিদে গেলাম। রাসুল (সা.) গন্ধ পেয়ে বললেন, যে এই দুর্গন্ধযুক্ত উদ্ভিদ থেকে কিছু খাবে, সে যেন আমাদের মসজিদের কাছে না আসে। লোকেরা বলতে লাগল, (রসুন) হারাম হয়ে গেছে। এ খবর রাসুল (সা.)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন, ‘হে লোকসকল, আল্লাহ আমার জন্য যা হালাল করেছেন, আমি তা হারাম করতে পারি না। কিন্তু এটি এমন এক উদ্ভিদ, যার গন্ধ আমার অপছন্দ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৬৫)

ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারে এক ফতোয়ায় লেখা হয়েছে, ‘দুর্গন্ধযুক্ত অবস্থায় নামাজে দাঁড়ানো মাকরুহ বা অপছন্দনীয় কাজ। বরং এ অবস্থায় মসজিদে প্রবেশ করাও মাকরুহ। হাদিসে কাঁচা পেঁয়াজ খেয়ে মসজিদে প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়েছে। অবশ্য এ কারণে নামাজ ছাড়া যাবে না এবং মসজিদে গমনাগমনও বন্ধ করা যাবে না। নামাজ আদায়ের আগে এবং মসজিদে প্রবেশের আগে ভালো করে মেসওয়াক বা ব্রাশ করে দুর্গন্ধ দূর করে নিতে হবে। দুর্গন্ধ নিয়ে নামাজ পড়লেও নামাজ আদায় হয়ে যাবে।’

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘কাঁচা পেঁয়াজ খেতে কোনো অসুবিধে নেই। তবে কাঁচা পেঁয়াজ খেয়ে মসজিদে যাওয়া যাবে না। মসজিদে ফেরেশতারা থাকে। মানুষ যে গন্ধে কষ্ট পায়, ফেরেশতারাও সে গন্ধে কষ্ট পায়। কাঁচা পেঁয়াজ খেয়ে মসজিদে যেতে হলে মুখ পরিষ্কার করে যেতে হবে।’