ইউআইইউতে পোস্ট বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠিত

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের (এসওবিই) উদ্যোগে পোস্ট বাজেট ২০২৬-২৭ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এ আলাচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রস্তাবিত করনীতি দেশের অর্থনীতির জন্য সামগ্রিকভাবে উপকারী হবে’ শীর্ষক একটি প্রাণবন্ত বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তির আলোকে জাতীয় বাজেটের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করেন।
এরপর ‘তরুণীরা কীভাবে বাজেটকে ব্যাখ্যা করে, এর অগ্রাধিকারগুলো মূল্যায়ন করে এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কল্পনা করে’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ আলোচনায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বাজেটের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন দিক নিয়ে নিজেদের মতামত, প্রত্যাশা ও নতুন নতুন চিন্তাধারা তুলে ধরেন। তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিগত সুপারিশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
মূল আলোচনা পর্বে আলোচকরা জাতীয় বাজেটের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট, কর কাঠামো, রাজস্ব আহরণ, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তারা বলেন, একটি কার্যকর বাজেট বাস্তবায়নের জন্য স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দক্ষ রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তরুণদের অর্থনৈতিক নীতি-নির্ধারণী আলোচনা ও গবেষণায় সম্পৃক্ত করার ওপরও বক্তারা গুরুত্বারোপ করেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর আবদুল বায়েস তার বক্তব্যে জাতীয় বাজেটকে দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাজেটের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈষম্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অতিরিক্ত কর কমিশনার ড. মো. নুরুল আমিন বলেন, কর ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও করদাতাবান্ধব করে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি কর প্রদানে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বেচ্ছায় কর প্রদানের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইউআইইউ স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের উপদেষ্টা প্রফেসর এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, জাতীয় বাজেট নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এ ধরনের আলোচনা শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণী দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নীতি-নির্ধারণী বিষয়ে সচেতন করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদান আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন।
ইউআইইউ বিবিএ প্রোগ্রামের পরিচালক প্রফেসর সালমা করিম বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কে সচেতন করে গড়ে তোলা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ইউআইইউর অর্থনীতি বিভাগের প্রধান প্রফেসর এম. ওমর ফারুক সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, জাতীয় বাজেট নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা এবং শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ভবিষ্যতের দক্ষ অর্থনীতিবিদ, নীতি-নির্ধারক ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা।
.png)






