এনসিপির সমাবেশস্থলে বিস্ফোরণে আহত কয়েকজন, সবশেষ যা জানা যাচ্ছে

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এনসিপির সমাবেশস্থলে বিস্ফোরণে আহত কয়েকজন, সবশেষ যা জানা যাচ্ছে
বিস্ফোণের সময় ছোটাছুটি শুরু করেন উপস্থিত লোকজন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার সভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে দায়ী করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বিস্ফোরণে অন্তত চারজন আহত হওয়ার খবর দিয়েছে ইংরেজি দৈনিক ‘ডেইলি স্টারের’ অনলাইন বিভাগ।

সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১১টার দিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলে থাকা সংবাদমাধ্যমটির সংবাদদাতার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বলা হয়, রাত ৯টা ২৬ মিনিটে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সাভারের তারাপুর মাঠে পৌঁছান। নেতাকর্মীরা মঞ্চে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে বিদ্যুৎ চলে যায়। ওই সময় অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। স্থানীয় দুইজন নেতার স্বল্প বক্তব্য শেষে রাত পৌনে ১০টার দিকে মঞ্চের দর্শক গ্যালারিতে একটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়।

সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. হাসান ডেইলি স্টারকে বলেন, এনসিপির কর্মসূচিস্থল থেকে চারজনকে আহত অবস্থায় এই হাসপাতালে আনা হয়েছে। তিনজনকে ওটিতে পাঠানো হয়েছে৷ এর মধ্যে শাহীন খন্দকার নামে একজনের বাম পায়ে গভীর ক্ষত হয়েছে। তার আঘাত একটু গুরুতর।

আহত শাহীন খন্দকার ডেইলি স্টারকে বলেন, আমি এনসিপির কর্মী। মঞ্চের ঠিক সামনে দর্শক গ্যালারিতে বসে ছিলাম। ককটেল বিস্ফোরণে আমার বাম পায়ের নিচের অংশে মারাত্মক ক্ষত হয়েছে।

মো. জসিম আলী নামে আরকেজন আহত ব্যক্তি বলেন, আমি এনসিপির কর্মী না। ওখানে প্রতিদিন ঘুরতে যাই। আজ গিয়ে দেখি ওখানে অনুষ্ঠান হচ্ছে। দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। আমার সামনেই ককটেল বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরিত অংশের কিছুটা আমার আঙ্গুলে লেগেছে।

এনসিপির মিডিয়া উইং থেকে জানানো হয়, ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দেওয়ার সময় এ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সমাবেশ মঞ্চে এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত থাকা অবস্থায় এ হামলা চালানো হয়।

এই ঘটনার পর নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে সাভারে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল হয়। দলটির নেতারা বর্তমানে সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন।

সাভার থানার সামনে থেকে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সমাবেশ শুরু হওয়ার পরপরই সেখানে বিদ্যুৎ চলে যায়। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, প্রশাসনিক সহযোগিতায় এই হামলা হয়েছে। আমরা এখন সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান করছি। শান্তিপূর্ণভাবে এখানেই অবস্থান কর্মসূচি পালন করব।

তিনি বলেন, পুলিশ-প্রশাসনের কাছে জানতে চাইব, একটি রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিকভাবে কর্মসূচি পালনের অধিকার রয়েছে। আর সেই কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশ ও প্রশাসনের দায়িত্ব।

নাহিদ বলেন, পুলিশ-প্রশাসন ও স্থানীয় এমপি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। কারা বোমা হামলা চালিয়েছে বা কীভাবে ঘটনা ঘটেছে, তা আমরা জানি না। তবে এ ঘটনার দায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। তাই আমরা তাদের কাছে জবাবদিহি চাইব।

বিষয় :সাভার