পাঁচ বছর ধরে নোংরা পানিতে ডুবছে স্কুলমাঠ, চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

ইমরান হোসেন পিংকু, যশোর
পাঁচ বছর ধরে নোংরা পানিতে ডুবছে স্কুলমাঠ, চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা
জলাবদ্ধ যশোর উপশহর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

যশোর উপশহর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঁচ বছর ধরে চলছে জলাবদ্ধতার অভিশাপ। বছরের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে জমে থাকে বর্জ্য ও দুর্গন্ধযুক্ত নোংরা পানি। সামান্য বৃষ্টিতেই সেই পানি ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। ফলে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান, বন্ধ রয়েছে খেলাধুলা এবং দিন দিন কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। একই সঙ্গে চরম দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় প্রায় ২০০ পরিবারের মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেনের পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বছরের পর বছর ধরে এই দুর্ভোগ চললেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৫০ বছর ধরে উপশহরের ই-ব্লকের বর্জ্য ও বৃষ্টির পানি শেখহাটির শালাভরা বিল দিয়ে নিষ্কাশন হতো। কিন্তু বিলের একাংশে বসতবাড়ি নির্মাণ এবং অন্য অংশে চাষাবাদ শুরু হওয়ায় সেই স্বাভাবিক পথটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে শেখহাটি বাজার হয়ে ভৈরব নদ পর্যন্ত নতুন ড্রেন নির্মাণ করা হলেও, ড্রেনের মুখ দিয়ে পানি বের হতে পারছে না। উল্টো পুরো এলাকার নোংরা পানি এসে জমা হচ্ছে এই বিদ্যালয় মাঠ ও এর আশপাশে।

স্থানীয় বাসিন্দা আনিসুর রহমান ও মহিবুল শেখ জানান, পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথে বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দেওয়ায় ড্রেনের পানি সরতে পারছে না। ফলে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় এলাকার মানুষের চর্মরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে। দুর্গন্ধে ঘরে টেকা দায় হয়ে পড়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন জানায়, প্রতিদিন নোংরা পানি মাড়িয়ে অত্যন্ত কষ্ট করে তাদের বিদ্যালয়ে যেতে হয়। মাঠ ডুবে থাকায় খেলাধুলাও পুরোপুরি বন্ধ।

ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মঈন উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এই জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে বসে পাঠদান করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।’

অবশেষে এই দুর্ভোগ নিরসনে কিছু সরকারি উদ্যোগের কথা জানা গেছে। উপশহর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাসান জহির এশিয়া পোস্টকে জানান, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাত লাখ টাকার বেশি বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে এবং কাজ বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।’

পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা সব বাঁধ ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হবে জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু হবে।

যশোর জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আশিক আহাম্মেদ সাকিব এশিয়া পোস্টকে জানান, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা রয়েছে। এ জন্য সার্ভে করা হচ্ছে এবং বাজেটের প্রস্তাব পাঠানো হবে। পাশাপাশি সদর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে একটি বরাদ্দ দিয়ে ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহরিয়ার হক এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘উপশহর এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু করে স্থায়ীভাবে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

বিষয় :যশোর