Advertisement

কুমিল্লার চোরাই মোবাইল যেভাবে যাচ্ছে ত্রিপুরার বাজারে

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুমিল্লা
কুমিল্লার চোরাই মোবাইল যেভাবে যাচ্ছে ত্রিপুরার বাজারে
প্রতীকী ছবি

কুমিল্লায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি কিংবা হারিয়ে যাওয়া বিপুল সংখ্যক মোবাইল ফোন সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে ত্রিপুরা থেকেও চোরাই মোবাইল বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে এসব মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র। ফলে অধিকাংশ ভুক্তভোগীই তাদের হারানো মোবাইল আর ফেরত পাচ্ছেন না।

জানা গেছে, কুমিল্লা ও ভারতের ত্রিপুরাকেন্দ্রিক একাধিক সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপথে চোরাই মোবাইল ফোন কেনাবেচা করে আসছে। জেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গিরিপথ ব্যবহার করে প্রায় প্রতিদিন রাতেই দুই দেশের মধ্যে এসব মোবাইল পাচার হচ্ছে। চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া ফোনও এই চক্রের মাধ্যমে সীমান্তের ওপারে চলে যাচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৯ হাজার মোবাইল ফোন চুরি, ছিনতাই বা ডাকাতির মাধ্যমে খোয়া যায়। এর মধ্যে কেবল কুমিল্লাতেই প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক মোবাইল হারানোর ঘটনা ঘটছে। তবে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ভুক্তভোগীদের কেবল একটি অংশ। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন থানায় গড়ে শতাধিক জিডি হলেও বহু ভুক্তভোগী কোনো অভিযোগই করেন না।

তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, চোরাই মোবাইলের অবস্থান শনাক্তকরণ এড়াতে বিশেষ সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়। আর আইফোনের মতো উচ্চমূল্যের যেসব হ্যান্ডসেটের আইএমইআই পরিবর্তন করা কঠিন, সেগুলো দেশের বাজারে বিক্রির ঝুঁকি না নিয়ে সরাসরি ভারতের ত্রিপুরায় পাচার করে দেওয়া হয়। একইভাবে ভারত থেকেও চোরাই মোবাইল বাংলাদেশে এনে বিক্রি করা হচ্ছে।

আদর্শ সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর, বড়জ্বালা গোলাবাড়ী; সদর দক্ষিণ উপজেলার রাজেশপুর, মথুরাপুর, বলেরডেপা, দলকিয়া এবং বুড়িচং উপজেলার শঙ্কুচাইল, লড়িবাগ ও খারেরা বেলবাড়িসহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে এসব মোবাইল ফোন পাচার করা হচ্ছে।

সীমান্তবর্তী নিশ্চিন্তপুর এলাকার বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, কুমিল্লা ও ত্রিপুরার চোরাই মোবাইল সিন্ডিকেটের মধ্যে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। প্রায় প্রতিদিন রাতেই নতুন ও ব্যবহৃত মোবাইল সীমান্ত পারাপার হয়। বিষয়টি স্থানীয় প্রায় সবারই জানা।

গোলাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আহসান হাবীব জানান, পুরোনো মোবাইল কেনাবেচার জন্যও আলাদা সিন্ডিকেট রয়েছে। কুমিল্লায় চুরি ও ছিনতাই হওয়া অনেক মোবাইল শেষ পর্যন্ত ত্রিপুরার বাজারে চলে যায়।

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, প্রতিদিনই মোবাইল হারানোর ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি হচ্ছে। আমরা প্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছি। ইতোমধ্যে অনেক মোবাইল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরও করা হয়েছে। একই সঙ্গে চোরাই মোবাইল বেচাকেনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে।

কুমিল্লা-১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলী এজাজ বলেন, সীমান্ত দিয়ে চোরাই মোবাইল ফোন পাচার ঠেকাতে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। অতীতেও একাধিক চালান জব্দ করা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিষয় :কুমিল্লা