জামালপুরে গত বছরের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিলেন ১০০ ছাত্রী

জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রে গত বছরের (২০২৫ সালের) পুরোনো প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৪ জুলাই) বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় কলেজের ৪২০২ নম্বর কক্ষে থাকা ১০০ জন পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা সবাই জামালপুর সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী।
সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ মীর শওকত আলম মীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রে আজ বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় ৯০০-এর বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী ছিলেন ৬৯ জন। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের একটি কক্ষে ভুলবশত অনিয়মিতদের জন্য তৈরি পুরোনো প্রশ্নপত্র বিতরণ করায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়। পরীক্ষা শেষে ভুল প্রশ্নপত্রের বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
পরীক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষা চলাকালে তারা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। হল থেকে বের হওয়ার পর অন্য কক্ষের পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশ্ন মেলাতে গিয়ে বিষয়টি তাদের নজরে আসে।
ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী তিলা জামালি বলেন, পরীক্ষা দেওয়া শেষে দেখতে পারি আমার প্রশ্নের ওপরে লেখা ‘২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী’। তার মানে এই প্রশ্ন আমাদের না। পরে অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু একটা ভুলের কারণে যে আমার এ-প্লাস কাটা যাবে না, এটার নিশ্চয়তা কী?
নুসরাত জাহান নামে আরেক পরীক্ষার্থী বলেন, সারা দেশ একটি প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে, আর আমরা ১০০ জন অন্য একটি প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিলাম। আমরা এখন পাস করব নাকি ফেল করব, সেটি নিয়ে চিন্তায় আছি।
এ বিষয়ে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ মীর শওকত আলম মীর বলেন, আমাদের কাছে যে প্রশ্নপত্র আসে সেগুলোতে ২০টি করে প্রশ্নপত্রের একটি বান্ডেল থাকে। ৪২০২ নম্বর কক্ষের জন্য যে পাঁচটি বান্ডেল খোলা হয়—সেসবের প্রতিটি বান্ডেলের ওপরে ‘২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র’ লেখা ছিল। কিন্তু ভেতরে ছিল ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি প্রশ্নপত্র।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা শুরুর আগে বিষয়টি দেখার সুযোগ না থাকায় শিক্ষকেরা বান্ডেল খুলে পরীক্ষার্থীদের মাঝে প্রশ্ন বিতরণ করেন। পরীক্ষা শেষে জানা যায়, যারা অনিয়মিত ও মানোন্নয়নের জন্য পরীক্ষা দিচ্ছেন, মূলত তাদের জন্য এই প্রশ্ন ছিল। বিষয়টি জানাজানির পর আমরা শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করেছি। বোর্ড থেকে বলা হয়েছে, সেই ১০০ জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদাভাবে পাঠাতে। তাঁদের উত্তরপত্রগুলো নমনীয়ভাবে এবং ২০২৫ সালের ওই প্রশ্নপত্র অনুযায়ীই মূল্যায়ন করা হবে। তাই পরীক্ষার্থীদের আশাহত বা উদ্বীগ্ন হওয়ার কারণ নেই।





