চাঁদাবাজির মামলায় এনসিপি নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫

এশিয়া পোস্ট নিউজ, দিনাজপুর
চাঁদাবাজির মামলায় এনসিপি নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫
গ্রেপ্তার আরিফ মুন (পাঞ্জাবি পরিহিত)। ছবি : এশিয়া পোস্ট

দিনাজপুরে জমি কেনাবেচার পাওনা টাকা নিয়ে এক ব্যক্তিকে অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন ‘যুবশক্তি’র কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠ এলাকা থেকে অপহৃতসহ তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার অন্য চারজন হলেন শহরের বালুয়াডাঙ্গা এলাকার হাসিন ইসরাক মিম (২২) ও আজমীর হোসেন ওরফে প্রেম (২২), বিরল উপজেলার সাজিদুল মিনহাজ (২৯) এবং সদর উপজেলার মো. হৃদয় (২২)।

কোতোয়ালি থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (৫ জুলাই) রাতে অপহৃত আব্দুস সামাদের ছেলে মো. মামুন থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ওই রাতে শহরের গোপালগঞ্জ পাঁচমাইল এলাকায় আব্দুস সামাদ তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে অবস্থানকালে রুবেল ও রোহান পরিচয়ধারী দুই ব্যক্তি ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা সহযোগীসহ সেখানে উপস্থিত হন। তারা আব্দুস সামাদকে মারধর করে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনার তদন্তে নেমে সোমবার বিকেলে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠে অভিযান চালিয়ে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার ও তিনজনকে আটক করে পুলিশ। থানায় নেওয়ার সময় এনসিপির অন্য কর্মীরা তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে; পরে আরও দুজনকে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে অপহৃতের ছেলে মো. মামুন বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে থানায় অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অপহৃত আব্দুস সামাদ জমি কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি আজমীর হোসেন প্রেমের এক আত্মীয় মজিবর রহমানকে জমির মালিকানা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাড়ে চার লাখ টাকা নেন। কিন্তু জমির মালিকানা বুঝিয়ে দিতে না পারায় এবং উল্টো মামলা দায়ের করায় আজমীর হোসেন ও তার অনুসারীরা রোববার রাতে আব্দুস সামাদকে তুলে নিয়ে যান এবং ওই টাকা পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। সোমবার বিকেলে টাকা দেওয়ার কথা বলে আব্দুস সামাদের ছেলে পুলিশের সহায়তা নিলে পুরো বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরনবী বলেন, মামলার পর আটক পাঁচজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে আদালতের মাধ্যমে হাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।