একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম, আনন্দ থেকে সংগ্রামের দিন
একটি সন্তান জন্ম দিতে যেখানে অনেক পরিবারকেই কঠিন সংগ্রাম করতে হয়, সেখানে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম—ঘটনাটি যেমন বিরল, তেমনি চ্যালেঞ্জে ভরা। পটুয়াখালীর বাউফলের এমনই এক পরিবার এখন আনন্দের চেয়ে বেশি লড়াইয়ের মধ্যে দিন পার করছে।
উপজেলার কালীশুরী ইউনিয়নের চাদকাঠি গ্রামের ফারুক হাওলাদারের পরিবারের লামিয়া বেগম একসঙ্গে জন্ম দেন পাঁচ সন্তান, যার মধ্যে তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। গত বছরের ৬ অক্টোবর বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে জন্ম নেয় এই পাঁচ নবজাতক।
খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় নেমে আসে উৎসবের আমেজ। বিরল এই ঘটনায় আনন্দে ভাসেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আনন্দ এখন রূপ নিয়েছে কঠিন বাস্তবতায়।
প্রতিদিন ভোর হওয়ার আগেই শুরু হয় পরিবারের ব্যস্ততা। একসঙ্গে পাঁচ শিশুর যত্ন; গোসল করানো, খাওয়ানো, কাপড় বদলানো—সবকিছু সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। একজন ঘুমালে অন্যজন জেগে ওঠে; এ যেন বিরতিহীন এক সংগ্রাম।
পাঁচ সন্তানের মা লামিয়া বেগম বলেন, আমার এই সন্তানদের সুস্থ রাখতে ঘুম-নিদ্রা কিছুই নেই। আল্লাহ আমাকে পাঁচটা সন্তান দিয়েছেন, আমি শুধু চাই ওরা সুস্থ থাকুক।
সন্তান জন্মের পর থেকেই লামিয়া বেগম অবস্থান করছেন তার বাবার বাড়িতে। স্বামী সোহেল হাওলাদার একজন সাধারণ মুদি দোকানি। সীমিত আয়ে পাঁচ সন্তানের ভরণপোষণ চালাতে গিয়ে পরিবারটি এখন প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
শিশুদের নানি বলেন, আল্লাহ আমাদের পাঁচটা নাতি-নাতনি দিয়েছে—এটা খুশির। কিন্তু জন্মের পর থেকেই খুব কষ্ট হচ্ছে। ওদের বাবার ছোট দোকান, কোনোভাবে চলতেছি। সরকার আর মানুষের কাছে সহযোগিতা চাই। আমাদের ঘুম-নিদ্রা কিছুই নেই।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ফিল্ড সুপারভাইজার হুমায়ন কবির বলেন, আমাদের সমাজসেবা অফিস থেকে সরাসরি এমন কোনো সহযোগিতা নেই। তবে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের একটি তহবিল আছে, সেখান থেকে প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার টাকার অনুদান পাওয়া যায়। তারা আবেদন করলে আমরা সহায়তার ব্যবস্থা করতে পারি।
একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের আগমন যেমন আশীর্বাদ, তেমনি এই পরিবারের জন্য তা হয়ে উঠেছে কঠিন এক বাস্তবতা। এখন তাদের একটাই প্রত্যাশা—সরকার ও সমাজের সহানুভূতিশীল মানুষের সহযোগিতা, যাতে করে পাঁচটি শিশুকে সুস্থভাবে বড় করে তুলতে পারেন।




