Advertisement

আবার পুলিশকে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু গুলি ছুড়ে পালাল শীর্ষ সন্ত্রাসী বাপ্পি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, সাভার
আবার পুলিশকে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু গুলি ছুড়ে পালাল শীর্ষ সন্ত্রাসী বাপ্পি
যে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান বাপ্পি, সেখানে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাজধানীর ফকিরাপুলের পর এবার সাভারে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু গুলি ছুড়ে পালিয়ে গেছে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী বাপ্পি। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে সাভারের জামগড়া চৌরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সেখানে স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতার বাসায় এক নারীসহ তিনজনকে জিম্মি করে চাঁদা দাবির খবর পেয়ে উদ্ধার করতে যায় পুলিশ। টের পেয়ে বাপ্পি তার দুই হাতে দুই পিস্তল দিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ৭-৮ রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বাসার নিচে সাবেক ছাত্রদল নেতা শরীফ চৌধুরীর মালিকানাধীন একটি মার্কেট রয়েছে। মার্কেটের মালিক শরীফের কাছ থেকে এক কোটি ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল বাপ্পি। চাঁদা আদায়ের জন্য শনিবার সকাল ৭টার দিকে সহযোগীদের নিয়ে বাসার পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে হানা দেয় বাপ্পি।

সেখানে তখন অবস্থান করছিলেন লিমা আক্তার নামে মার্কেটের ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে থাকা এক নারী এবং বাসার কেয়ারটেকার ও স্যানিটারি মিস্ত্রি (এই দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি)। তিনজনকে জিম্মি করে তাদের ফোন ছিনিয়ে নেন বাপ্পি ও তার সহযোগীরা। টানা পাঁচ ঘণ্টা অস্ত্রের মুখে জিম্মি রেখে ঘরের লকার, আলমারি ও অফিসের ড্রয়ার তল্লাশি চালান তারা।

গত বছরের ১৯ জুন মধ্যরাতে রাজধানীর ফকিরাপুলে গোয়েন্দা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসী বাপ্পি। ৯ দিন পর ২৭ জুন যশোরের সীমান্তবর্তী ঘোপ নওয়াপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তার কাছ থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, ৬টি গুলিভর্তি ম্যাগাজিন ও ১৫১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার এক বছরের মাথায় সাভারে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে আবার পালিয়ে গেছে বাপ্পি।

সাভারের ঘটনার বিষয়ে পুলিশ জানায়, দুপুর ১২টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ শরীফ মার্কেটে অভিযানে গেলে বাপ্পি তার দুই হাতে দুই পিস্তল নিয়ে এলোপাতাড়ি ৭-৮ রাউন্ড গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ৪-৫ রাউন্ড পাল্টা গুলি ছুড়ে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

শরীফ চৌধুরীর স্ত্রী মাহি চৌধুরী বলেন, বাপ্পি আমার স্বামীর কাছে এক কোটি ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা না দেওয়ায় এর আগে গাড়ি আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল। আজ চাঁদার জন্য এসে আমাদের মার্কেট ম্যানেজার লিমাসহ তিনজনকে অস্ত্রের মুখে পাঁচ ঘণ্টা জিম্মি করে রেখে সব তছনছ করে। জেল থেকে বের হয়ে সে আবার এই চাঁদাবাজির রাজত্ব শুরু করেছে। আমরা এখন মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

জিম্মিদশার বর্ণনা দিয়ে লিমা আক্তার বলেন, সকাল ৭টায় বাপ্পি মার্কেটের ওপরে বাসায় ঢুকে সবার ফোন কেড়ে নেয় ও পিস্তল উঁচিয়ে জিম্মি করে রাখে। বাসায় বাপ্পি যেদিকে যাচ্ছিল আমাকে পিস্তলের সামনে রেখে নিয়ে যাচ্ছিল। পুলিশ এলে বাপ্পি আমাকে একটি হ্যান্ডকাফের মতো জিনিস পরিয়ে সামনে ঢাল বানিয়ে রাখে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ সামনে এসে লাথি মারলে সে আমাকে সামনে রেখে দুই হাতে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করতে করতে বাথরুমের ওপর দিয়ে পালিয়ে যায়। আমি সামনে ছিলাম, পুলিশ জীবন বাঁচাতে পাল্টা গুলি করতে পারেনি। পরে আমি সরে গেলে পুলিশ গুলি করে।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাপ্পি তার সহযোগীদের নিয়ে ভবনে ঢুকে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না পেয়ে এবং পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জিম্মি লিমাকে সামনে রেখে পালানোর চেষ্টা করে ও গুলিবর্ষণ করে।

তিনি আরও জানান, জিম্মিকে নিরাপদে উদ্ধার করতে পুলিশ পাল্টা গুলি ছোড়ে। জিম্মি উদ্ধার হলেও কৌশলে পালিয়ে যান বাপ্পি। তাকে ধরতে অভিযান চলছে। কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিষয় :সাভার