আইসিইউতে ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ায় মৃত্যুহার ৯০ শতাংশ: আইসিডিডিআর,বি

দেশের হাসপাতালগুলোর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ছড়িয়ে পড়ছে সহজে চিকিৎসা করা যায় না এমন ওষুধ-প্রতিরোধী (ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট) ব্যাকটেরিয়া—যেখানে মৃত্যুর হার ৯০ শতাংশের বেশি। আইসিডিডিআর,বি-র সাম্প্রতিক দুটি গবেষণায় এমন আশঙ্কাজনক চিত্র উঠে এসেছে।
গবেষকেরা বলছেন, হাসপাতালে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ (আইপিসি) ব্যবস্থা জোরদার করে এই মারাত্মক সংক্রমণ ও অকালমৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
রোববার (২৫ জুলাই) গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এই দুই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, আইসিইউতে ভর্তির সময় যেসব রোগী এ ধরনের ব্যাকটেরিয়ামুক্ত ছিলেন, তাঁদের অর্ধেকেরও বেশি চিকিৎসাধীন অবস্থায় এতে আক্রান্ত বা সংক্রমিত হয়েছেন। এসব সংক্রমিত রোগীর ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার ছিল আশঙ্কাজনকভাবে বেশি।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী ‘মাইক্রোবায়োলজি স্পেকট্রাম’ এবং ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড ইনফেকশন কন্ট্রোল’-এ গবেষণা দুটি প্রকাশিত হয়েছে বলে জানিয়েছে আইসিডিডিআর,বি।
আইসিডিডিআর,বি জানায়, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকার একটি বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হওয়া ৩৭৩ জন গুরুতর অসুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক রোগী এবং একই হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) ডিসেম্বর ২০২৩ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত ভর্তি থাকা ৩৬৩ জন নবজাতকের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ ফলাফল পাওয়া গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউএস সিডিসির (US CDC) নীতিমালার আলোকে গবেষণাগুলো পরিচালিত হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, আইসিইউর প্রায় ৪৮.৫ শতাংশ রোগীর অন্ত্রে চিকিৎসায় সাড়াহীন ‘গ্রাম-নেগেটিভ’ ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি (কলোনাইজেশন) ছিল। তবে সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো—শুরুতে ব্যাকটেরিয়ামুক্ত থাকা ১৯৮ জন রোগীর মধ্যে ১০৫ জনই (৫৩ শতাংশ) আইসিইউতে অবস্থানকালে নতুন করে সংক্রমিত হন। কালচার পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া এসব সংক্রমিত রোগীর ক্ষেত্রে আইসিইউতে মৃত্যুর হার ছিল ৯০ শতাংশের বেশি।
একই গবেষণা দলের দ্বিতীয় একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, সুনির্দিষ্ট ও কঠোর সংক্রমণ প্রতিরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই ঝুঁকি আশাব্যঞ্জকভাবে কমানো সম্ভব। ঢাকার একটি এনআইসিইউতে স্বাস্থ্যকর্মীদের হাত ধোয়া, সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত নজরদারি জোরদার করার পর দেখা যায়—প্রতি ১০০ জন ভর্তি রোগীর মধ্যে রক্তপ্রবাহের সংক্রমণ ২৮ জন থেকে কমে মাত্র ৪ জনে (৮৬ শতাংশ হ্রাস) নেমে এসেছে। একই সময়ে মৃত্যুহার প্রতি ১০০ জনে ২৬ জন থেকে কমে মাত্র ৪ জনে নেমে আসে।
আইসিডিডিআর,বি-র এএমআর রিসার্চ ইউনিটের প্রধান ও প্রধান গবেষক ড. ফাহমিদা চৌধুরী বলেন, হাসপাতাল হওয়া উচিত আরোগ্যের স্থান, নতুন করে সংক্রমিত হওয়ার জায়গা নয়। নিবিড় পরিচর্যায় থাকা সংকটাপন্ন রোগীদের সুরক্ষায় পরিচ্ছন্নতা, আইপিসি ব্যবস্থা জোরদার এবং অ্যান্টিবায়োটিকের দায়িত্বশীল ব্যবহার এখন অপরিহার্য।
প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ জানান, সাধারণ কিছু মৌলিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা জোরদার করলেই এই প্রাণঘাতী ঝুঁকি বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। নীতিনির্ধারক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে কার্যকর বিনিয়োগ ও নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
.png)






