Advertisement

সরিষা নাকি রিফাইন্ড তেল, হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি বেশি উপকারী

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
সরিষা নাকি রিফাইন্ড তেল, হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি বেশি উপকারী
কোনো তেলই অতিরিক্ত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর নয়। ছবি : এআই

রান্নার জন্য কোন তেল ব্যবহার করবেন, তা নিয়ে অনেকেরই দ্বিধা থাকে। কেউ সরিষার তেলকে বেশি স্বাস্থ্যকর মনে করেন, আবার কেউ রিফাইন্ড তেলকে ভালো বিকল্প বলে ভাবেন। কিন্তু সত্যিই কি একটি অন্যটির চেয়ে ভালো?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু তেলের ধরন নয়, কতটা তেল খাওয়া হচ্ছে, কীভাবে রান্না করা হচ্ছে এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস কেমন, সেগুলোও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো একটি তেলকে এককভাবে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর বলা ঠিক নয়।

সরিষার তেলে কী থাকে?

সরিষার তেলে তুলনামূলক কম স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং বেশি পরিমাণে মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। এতে কিছু পরিমাণ ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও রয়েছে, যা হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

এ ছাড়া সরিষার তেলের ঝাঁঝালো স্বাদ অনেকের রান্নায় আলাদা স্বাদ যোগ করে।

রিফাইন্ড তেল কী?

রিফাইন্ড তেল বলতে একটি নির্দিষ্ট তেলকে বোঝায় না। সয়াবিন, সূর্যমুখী, ক্যানোলা, রাইস ব্র্যান, ভুট্টাসহ বিভিন্ন তেল পরিশোধন বা রিফাইনিংয়ের মাধ্যমে বাজারজাত করা হয়।

রিফাইনিংয়ের ফলে তেলের গন্ধ, রং ও কিছু অমেধ্য দূর করা হয়। তবে এই প্রক্রিয়ায় কিছু প্রাকৃতিক উপাদানের পরিমাণও কমে যেতে পারে। তবু অধিকাংশ রিফাইন্ড তেলেই স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি থাকে।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি ভালো?

এ প্রশ্নের সরাসরি একক উত্তর নেই।

গবেষণায় দেখা গেছে, সরিষার তেলে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট কোলেস্টেরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে প্রচলিত সরিষার তেলে ইরুসিক অ্যাসিড নামের একটি ফ্যাটি অ্যাসিডও থাকে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে।

প্রাণীর ওপর করা কিছু পুরোনো গবেষণায় উচ্চমাত্রার ইরুসিক অ্যাসিড নিয়ে উদ্বেগ দেখা গেলেও, মানুষের ক্ষেত্রে এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে এখনও পর্যাপ্ত ও নিশ্চিত প্রমাণ নেই। তাই এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, সূর্যমুখী, ক্যানোলা বা রাইস ব্র্যানের মতো অনেক রিফাইন্ড তেলেও স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি থাকে এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এগুলোও ব্যবহার করা যেতে পারে।

শুধু তেল বদলালেই কি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকবে?

না। হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুধু তেল পরিবর্তন করলেই হবে না। আরও কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। যেমন-

  • অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার কম খাওয়া
  • পর্যাপ্ত ফল, শাকসবজি ও পূর্ণ শস্য খাওয়া
  • নিয়মিত ব্যায়াম করা
  • ধূমপান এড়িয়ে চলা
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
  • ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অভ্যাস কেবল তেল পরিবর্তনের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

রান্নার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

  • একই তেল বারবার গরম করবেন না।
  • গভীর তেলে ভাজা খাবার কম খান।
  • পরিমিত পরিমাণে তেল ব্যবহার করুন।
  • সম্ভব হলে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যকর তেল পালা করে ব্যবহার করতে পারেন।

তাহলে কোন তেল বেছে নেবেন?

যদি সরিষার তেল ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করেন, তাহলে এটি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। আবার ভালো মানের রিফাইন্ড ক্যানোলা, সূর্যমুখী বা রাইস ব্র্যান তেলও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো তেলই অতিরিক্ত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর নয়। হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে তেলের ধরন যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।

সরিষার তেল ও রিফাইন্ড তেলের মধ্যে কোনটি ভালো, তার উত্তর সাদা-কালো নয়। উভয় ধরনের তেলেরই কিছু সুবিধা রয়েছে। তাই শুধু একটি তেলের ওপর নির্ভর না করে পরিমিত তেল ব্যবহার, স্বাস্থ্যকর রান্নার পদ্ধতি এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করাই হৃদ্‌স্বাস্থ্য রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সূত্র: নিউজ বাংলা ১৮