বর্ষায় ছোট্ট ভুলেই কমে যেতে পারে ওষুধের কার্যকারিতা

বর্ষাকালে ওষুধ সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে সেগুলোর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। কারণ এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় অনেক ওষুধ তাপ, আলো ও আর্দ্রতার সংস্পর্শে এসে দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধ ঠিকমতো কাজ করাতে শুধু সময়মতো খাওয়াই নয়, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই বর্ষায় ওষুধ কোথায় এবং কীভাবে রাখছেন, সে বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত আর্দ্রতা শুধু খাবার বা কাপড়ের ওপরই প্রভাব ফেলে না, ওষুধের কার্যকারিতাও কমিয়ে দিতে পারে। অনেকেই ঘরের যেকোনো আলমারি, রান্নাঘর বা বাথরুমে ওষুধ রেখে দেন। কিন্তু সব জায়গা ওষুধ সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত তাপ, আর্দ্রতা, আলো এবং ভুলভাবে সংরক্ষণের কারণে কিছু ওষুধ দ্রুত নষ্ট হতে পারে বা কার্যকারিতা হারাতে পারে। তাই বিশেষ করে বর্ষাকালে ওষুধ সংরক্ষণের বিষয়ে একটু বেশি সতর্ক থাকা জরুরি।
কেন বর্ষায় ওষুধের বিশেষ যত্ন প্রয়োজন?
বর্ষাকালে বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকে। এই আর্দ্রতা ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, গুঁড়া ও কিছু তরল ওষুধের গুণগত মানে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ওষুধ দেখতে স্বাভাবিক থাকলেও আগের মতো কার্যকর নাও থাকতে পারে।
কোথায় ওষুধ রাখা সবচেয়ে ভালো?
বেশির ভাগ ওষুধ ঠান্ডা, শুষ্ক এবং সরাসরি সূর্যের আলো থেকে দূরে রাখা উচিত।
ওষুধ রাখার জন্য ভালো জায়গা হতে পারে শোবার ঘরের আলমারি, ড্রয়ার বা ঠান্ডা ও শুকনো স্টোরেজ ক্যাবিনেট।
তবে প্রতিটি ওষুধের গায়ে বা লিফলেটে দেওয়া সংরক্ষণের নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। কিছু ওষুধ সাধারণ তাপমাত্রায় রাখতে হয়, আবার কিছু ওষুধ ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ফ্রিজে রাখতে হয়।
বাথরুমে ওষুধ রাখা উচিত নয় কেন?
অনেকের অভ্যাস বাথরুমের মেডিসিন ক্যাবিনেটে ওষুধ রাখা। কিন্তু গোসলের সময় তৈরি হওয়া বাষ্প ও আর্দ্রতা ওষুধের ক্ষতি করতে পারে।
একইভাবে রান্নাঘরের চুলার পাশে বা সিঙ্কের কাছেও ওষুধ রাখা ঠিক নয়। সেখানে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার ওঠানামা বেশি হয়।
ওষুধ কি ফ্রিজে রাখবেন?
সব ওষুধ ফ্রিজে রাখার প্রয়োজন নেই।
শুধু যেসব ওষুধের মোড়কে বা চিকিৎসকের পরামর্শে ফ্রিজে রাখার নির্দেশনা থাকে, সেগুলোই ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে। অন্য ওষুধ অকারণে ফ্রিজে রাখলে সেগুলোরও ক্ষতি হতে পারে।
ওষুধের মূল প্যাকেট খুলে অন্য বোতলে রাখবেন না
অনেকে জায়গা বাঁচানোর জন্য ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল অন্য পাত্রে রেখে দেন। এতে ওষুধ আর্দ্রতা ও আলোর সংস্পর্শে বেশি আসে। পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ বা প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও হারিয়ে যেতে পারে।
তাই সম্ভব হলে ওষুধ সব সময় মূল প্যাকেট বা বোতলেই রাখুন।
তুলার বল বোতলে রেখে দেবেন না
কিছু ওষুধের বোতলে শুরুতে তুলার বল থাকে। অনেকেই সেটি রেখে দেন। কিন্তু এই তুলা বাতাসের আর্দ্রতা শোষণ করে বোতলের ভেতরে ধরে রাখতে পারে। তাই বোতল খোলার পর তুলার বলটি সরিয়ে ফেলাই ভালো।
নষ্ট ওষুধ কীভাবে চিনবেন?
নিচের লক্ষণগুলো দেখা গেলে ওষুধ ব্যবহার না করাই ভালো।
- রং বদলে যাওয়া
- দুর্গন্ধ হওয়া
- ট্যাবলেট ভেঙে যাওয়া
- ক্যাপসুল লেগে যাওয়া
- সিরাপের রং বা ঘনত্ব বদলে যাওয়া
এমন হলে ওষুধটি মেয়াদের মধ্যে থাকলেও ফার্মাসিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জমিয়ে রাখবেন না
অনেকেই প্রয়োজন শেষ হলেও ওষুধ রেখে দেন। নিয়মিত ওষুধের মেয়াদ পরীক্ষা করুন। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বা চিকিৎসকের প্রয়োজন না থাকলে সেগুলো নিরাপদভাবে ফেলে দিন।
শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন
ওষুধ সব সময় শিশুদের হাতের নাগালের বাইরে এবং সম্ভব হলে তালাবদ্ধ আলমারিতে রাখুন। এতে দুর্ঘটনাবশত ওষুধ খেয়ে ফেলার ঝুঁকি কমে।
ওষুধ ঠিকভাবে সংরক্ষণ করা চিকিৎসারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্ষাকালের অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। তাই ওষুধ সব সময় ঠান্ডা, শুষ্ক ও নিরাপদ স্থানে রাখুন, মূল প্যাকেট ব্যবহার করুন এবং প্রতিটি ওষুধের সংরক্ষণবিষয়ক নির্দেশনা মেনে চলুন। এতে প্রয়োজনের সময় ওষুধ থেকে সর্বোচ্চ উপকার পাওয়া সম্ভব হবে।
সূত্র:এই সময় অনলাইন
.png)






