Advertisement

হাইপারথাইরয়েডিজমের যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
হাইপারথাইরয়েডিজমের যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না
ছবি : সংগৃহীত

হঠাৎ করেই ওজন কমে যাচ্ছে, সব সময় গরম লাগছে, হৃদ্‌স্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে বা অকারণে উদ্বেগ ও অস্থিরতা অনুভব করছেন? অনেকেই এসব সমস্যাকে মানসিক চাপ বা ব্যস্ত জীবনের প্রভাব বলে মনে করেন। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এগুলোথাইরয়েড-এর একটি সাধারণ সমস্যা, হাইপারথাইরয়েডিজমের লক্ষণ হতে পারে।

হাইপারথাইরয়েডিজম হলে থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরিমাণে থাইরয়েড হরমোন তৈরি করে। এর ফলে শরীরের বিপাকক্রিয়া অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত হয়ে যায় এবং বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজেও পরিবর্তন দেখা দেয়।

হাইপারথাইরয়েডিজম কী?

থাইরয়েড হলো গলার সামনের দিকে প্রজাপতির মতো আকৃতির একটি ছোট গ্রন্থি। এটি টি-৩ এবং টি-৪ নামে দুটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন তৈরি করে। এই হরমোন শরীরের বিপাকক্রিয়া, হৃদ্‌স্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা এবং শক্তি ব্যবহারের গতি নিয়ন্ত্রণ করে।

যখন থাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত হরমোন তৈরি করে, তখন সেই অবস্থাকে হাইপারথাইরয়েডিজম বা ওভারঅ্যাকটিভ থাইরয়েড বলা হয়।

কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?

হাইপারথাইরয়েডিজমের লক্ষণ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে, আবার কারও ক্ষেত্রে হঠাৎ লক্ষণ দেখা দেয়।

সাধারণ লক্ষণগুলো হলো-

  • চেষ্টা ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া
  • হৃদ্‌স্পন্দন দ্রুত বা অনিয়মিত হওয়া
  • বুক ধড়ফড় করা
  • হাত কাঁপা
  • অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
  • সব সময় গরম লাগা
  • উদ্বেগ, অস্থিরতা বা খিটখিটে মেজাজ
  • ঘুমের সমস্যা
  • ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া
  • ঘন ঘন মলত্যাগ
  • পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া
  • চুল পাতলা হয়ে যাওয়া
  • ত্বক উষ্ণ ও আর্দ্র হয়ে যাওয়া
  • নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক অনিয়মিত হওয়া বা কমে যাওয়া

বয়স্কদের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো অনেক সময় স্পষ্ট হয় না। তাদের মধ্যে ক্লান্তি, দুর্বলতা, ওজন কমে যাওয়া বা অনিয়মিত হৃদ্‌স্পন্দনের মতো সমস্যা বেশি দেখা যেতে পারে।

কেন এই সমস্যা হয়?

হাইপারথাইরয়েডিজমের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো গ্রেভস ডিজিজ। এটি একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে থাইরয়েডকে অতিরিক্ত হরমোন তৈরি করতে উদ্দীপিত করে।

এ ছাড়া আরও কিছু কারণ রয়েছে। যেমন থাইরয়েডে গিঁট বা নডিউল, থাইরয়েডে প্রদাহ, অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন গ্রহণ ও কিছু বিরল থাইরয়েডজনিত রোগ।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

নিচের ব্যক্তিদের মধ্যে হাইপারথাইরয়েডিজমের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

  • নারীরা
  • পরিবারের কারও থাইরয়েড রোগ থাকলে
  • গ্রেভস ডিজিজের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে
  • সম্প্রতি সন্তান জন্ম দিয়েছেন এমন কিছু নারী
  • কিছু অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি

চিকিৎসা না করলে কী হতে পারে?

চিকিৎসা না করলে হাইপারথাইরয়েডিজম থেকে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।

এর মধ্যে রয়েছে-

  • অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশনসহ অনিয়মিত হৃদ্‌স্পন্দন
  • হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া
  • স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি
  • হাড় দুর্বল হয়ে অস্টিওপোরোসিস হওয়া
  • চোখের সমস্যা, বিশেষ করে গ্রেভস ডিজিজে
  • বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী থাইরয়েড স্টর্ম, যেখানে জ্বর, দ্রুত হৃদ্‌স্পন্দন, বিভ্রান্তি ও পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে


কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়?

হাইপারথাইরয়েডিজম নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক প্রথমে রোগীর লক্ষণ ও শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করেন। এরপর সাধারণত রক্ত পরীক্ষা করে টিএসএইচ, টি-৩ এবং টি-৪ হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়।

প্রয়োজনে থাইরয়েড স্ক্যান বা আলট্রাসাউন্ডের মতো অতিরিক্ত পরীক্ষাও করা হতে পারে।

চিকিৎসা কী?

হাইপারথাইরয়েডিজমের চিকিৎসা রোগের কারণ, বয়স এবং শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।

চিকিৎসার মধ্যে থাকতে পারে অ্যান্টি থাইরয়েড ওষুধ, রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন থেরাপি, থাইরয়েডের অস্ত্রোপচার ও/বা হৃদ্‌স্পন্দন নিয়ন্ত্রণে কিছু ক্ষেত্রে বিটা ব্লকার ওষুধ।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • কোনো কারণ ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
  • হৃদ্‌স্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া
  • অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
  • সব সময় গরম লাগা
  • গলার সামনের অংশ ফুলে যাওয়া
  • হাত কাঁপা বা অতিরিক্ত অস্থিরতা

এসব লক্ষণ থাকলে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে থাইরয়েডের সমস্যা আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়।

হাইপারথাইরয়েডিজম একটি সাধারণ কিন্তু অবহেলা করলে জটিল হয়ে উঠতে পারে এমন রোগ। এর লক্ষণগুলো অনেক সময় উদ্বেগ, মানসিক চাপ বা অন্য শারীরিক সমস্যার সঙ্গে মিলে যায়। তাই দীর্ঘদিন ধরে অকারণে ওজন কমে যাওয়া, হৃদ্‌স্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত গরম লাগার মতো সমস্যা থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করলে বেশির ভাগ মানুষই স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।

সূত্র:মায়ো ক্লিনিক