Advertisement

নজরুলের এমপি পদ বাতিলে স্পিকার ও ইসিকে দেওয়া চিঠিতে যা আছে

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
নজরুলের এমপি পদ বাতিলে স্পিকার ও ইসিকে দেওয়া চিঠিতে যা আছে
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও স্পিকারকে দেওয়া চিঠি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে এমপি পদ বাতিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ওই চিঠির একটি অনুলিপি জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর পাঠিয়েছে দলটি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত পত্রটি পাঠানোর বিষয়টি মিডিয়া বিভাগ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ওই চিঠিতে উল্লেখিত বিষয় হুবহু তুলে ধরা হলো:

‘বরাবর, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, নির্বাচন ভবন, আগারগাঁও, ঢাকা-১২০৭। বিষয়: জনাব গাজী নজরুল ইসলাম, মাননীয় সংসদ সদস্যকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার।

জনাব, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর নৈতিক স্থলন প্রমাণিত হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অতএব, জনাব গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি আপনার অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাখিল করা হলো।

ধন্যবাদান্তে মিয়া গোলাম পরওয়ার, সেক্রেটারি জেনারেল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

অনুলিপি (অবগতির জন্য প্রেরণ করা হলো: মাননীয় স্পিকার, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবন, শেরে বাংলানগর, ঢাকা-১২০৭।

অপরদিকে, জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর আরেকটি চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর অনুলিপি যুক্ত করা হয়েছে।

সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে ভিডিওটি ভাইরাল হলে তা রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওটি ভাইরাল হবার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করে। দলীয় তদন্তে ঘটনাটি তার 'নৈতিক স্খলন' হিসেবে প্রমাণিত হয়। এর ভিত্তিতে ২১ জুলাই দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি সভায় গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা মোতাবেক তাকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ২২ জুলাই দলের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।