Advertisement

ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে রান্নার সময় সবুজ হয়ে যাওয়া গরুর মাংস

এশিয়া পোস্ট নিউজ, খুলনা
ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে রান্নার সময় সবুজ হয়ে যাওয়া গরুর মাংস
রান্নার সময় সবুজ হয়ে যাওয়া গরুর মাংস। ছবি: এশিয়া পোস্ট

খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় রান্না করার সময় গরুর মাংসের রং সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে মাংসের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্তে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাংসের নমুনা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (স্যানিটারি ইন্সপেক্টর) উদয় কুমার মণ্ডল বলেন, আজ অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খুলনা জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. মোকলেছুর রহমানের কাছে ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, মাংস বিক্রেতার নাম, মোবাইল নম্বর ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানাসহ ক্রেতাদের পরিচয় ও যোগাযোগের তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণের জন্য রান্না করা মাংসের নমুনাও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) পৌরসভার মডার্ন বেকারির কর্মচারীদের একটি পিকনিকে রান্নার সময় গরুর মাংসের রং সবুজ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে রান্না করা মাংস নিয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও পাইকগাছা থানায় যান।

এদিন সকালে পাইকগাছা বাজারের একটি দোকান থেকে প্রায় চার কেজি গরুর মাংস কিনে পিকনিকের জন্য রান্না করেন মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা। তাদের দাবি, রান্নার মাঝপথে মাংসের স্বাভাবিক লালচে রং ধীরে ধীরে সবুজ হয়ে যায়। এরপর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে মাংস বিক্রেতা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি ভালো মানের মাংস বিক্রি করেছেন এবং এতে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পার্থ প্রতিম রায় বলেন, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ছাড়া মাংসের রং পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এ ধরনের রাসায়নিক পরীক্ষা করার সক্ষমতা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নেই, কারণ আমাদের প্রয়োজনীয় ল্যাব সুবিধা নেই।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তদন্তের প্রয়োজন হলে পুলিশের সংশ্লিষ্ট ফরেনসিক বা কেমিক্যাল পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করা যেতে পারে। যদি কোনো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে এমন ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকে, তাহলে সেটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, আমি তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। কিন্তু তারা এখনো কোনো অভিযোগ করেনি। আমি নিজেও দেখেছি, মাংসের রং নীলচে ধারণ করেছে। যেহেতু কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি, তাই আমরা আইনগত কোনো পদক্ষেপ নিতে পারিনি। তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। একই বিক্রেতার কাছ থেকে একাধিক ব্যক্তি মাংস কিনেছেন। তাদের মধ্যে একটি বেকারিতেও ওই মাংস রান্না করা হয়েছে। তাই ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি মাংস পচা বা নষ্ট হতো, তাহলে দুর্গন্ধ থাকার কথা।

তিনি আরও বলেন, কাঁচা ও রান্না করা—উভয় ধরনের মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা হবে এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। পরীক্ষায় মাংসে কোনো ধরনের রাসায়নিক বা ক্ষতিকর পদার্থ মেশানোর প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয় :খুলনা