আইভিএফের আগে ওজন কমানো কতটা জরুরি

আইভিএফ (IVF) বা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন অনেক দম্পতির জন্য সন্তান ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাপদ্ধতি। তবে আইভিএফ চিকিৎসা শুরুর আগে অনেকেই জানতে চান, ওজন কমানো কতটা জরুরি। অতিরিক্ত ওজন প্রজননস্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে চিকিৎসকেরা অনেক সময় ওজন নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেন।
তবে আইভিএফের সফলতা শুধু ওজনের ওপর নির্ভর করে না। বয়স, ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর গুণগত মান, হরমোনের ভারসাম্য এবং সামগ্রিক শারীরিক অবস্থাসহ একাধিক বিষয় এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আইভিএফের আগে ওজন কমানো প্রয়োজন কি না, তা ব্যক্তিভেদে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ওজন নিয়ন্ত্রণ সামগ্রিক প্রজননস্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। তবে শুধু ওজন কমালেই আইভিএফ নিশ্চিতভাবে সফল হবে, এমনটি বলা যায় না। কারণ আইভিএফের সাফল্য নির্ভর করে বয়স, ডিম্বাণুর মান, শুক্রাণুর গুণগত মান, হরমোনের অবস্থা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয়সহ অনেক কিছুর ওপর।
অতিরিক্ত ওজন আইভিএফে কী প্রভাব ফেলতে পারে?
অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা শরীরের হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে। এর ফলে ডিম্বস্ফোটন ব্যাহত হতে পারে, ডিম্বাণুর মান কমতে পারে এবং আইভিএফ চিকিৎসার সময় ডিম্বাশয় উদ্দীপিত করাও তুলনামূলক কঠিন হতে পারে।
এ ছাড়া স্থূলতার কারণে গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
ওজন কমালে কী উপকার পাওয়া যেতে পারে?
গবেষণায় দেখা গেছে, ওজন কমানোর পরিকল্পনা অনুসরণ করলে কিছু নারীর ক্ষেত্রে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। বিশেষ করে আইভিএফ শুরুর আগেই স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সুযোগ কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওজন কমানো আইভিএফের মাধ্যমে জীবিত সন্তান জন্মের হার নিশ্চিতভাবে বাড়ায়, এমন প্রমাণ এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। এ বিষয়ে আরও বড় গবেষণা প্রয়োজন।
কতটা ওজন কমানো প্রয়োজন?
সব মানুষের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই।
চিকিৎসকেরা সাধারণত শরীরের ওজন, বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই, বয়স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করে পরামর্শ দেন। অনেক ক্ষেত্রে মোট ওজনের ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমাতে পারলেও বিপাকীয় স্বাস্থ্য এবং হরমোনের ভারসাম্যে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তবে এটি ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।
দ্রুত ওজন কমানো কি ভালো?
না। খুব কম ক্যালরির ডায়েট, অতিরিক্ত ব্যায়াম বা দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যা উল্টো প্রজননস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানোর পরামর্শ দেন।
আইভিএফের আগে কীভাবে স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণ করবেন?
- সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খান।
- নিয়মিত হাঁটা বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম করুন।
- পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
- ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
- প্রয়োজন হলে পুষ্টিবিদ ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
- নিজের ইচ্ছামতো ওজন কমানোর ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করবেন না।
শুধু ওজন নয়, আরও যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ
আইভিএফের সাফল্য শুধু ওজনের ওপর নির্ভর করে না। আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নারীর বয়স, ডিম্বাণুর মান, শুক্রাণুর গুণগত মান, বন্ধ্যাত্বের কারণ, জরায়ুর স্বাস্থ্য এবং জীবনযাপন ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের উপস্থিতি।
এসব বিষয় একসঙ্গে মূল্যায়ন করেই চিকিৎসকেরা চিকিৎসা পরিকল্পনা করেন।
অতিরিক্ত ওজন থাকলে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানো প্রজননস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে গর্ভধারণের সম্ভাবনাও বাড়াতে পারে। তবে শুধু ওজন কমালেই আইভিএফ নিশ্চিতভাবে সফল হবে, এমনটি নয়। তাই আইভিএফের পরিকল্পনা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য মূল্যায়ন করে ধাপে ধাপে প্রস্তুতি নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।
সূত্র: এনডিটিভি
.png)






