Advertisement

বেশি ঝাল খাওয়া নিয়ে নতুন সতর্কতা, কী বলছে গবেষণা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
বেশি ঝাল খাওয়া নিয়ে নতুন সতর্কতা, কী বলছে গবেষণা
ছবি : সংগৃহীত

ঝাল খাবার অনেকেরই ভীষণ পছন্দ। কাঁচা মরিচ, শুকনা মরিচ কিংবা বিভিন্ন ঝাল মসলা ছাড়া অনেকের খাবারই যেন জমে না। তবে সম্প্রতি একটি গবেষণাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ঝাল খাবার খাওয়ার সঙ্গে খাদ্যনালীর ক্যানসারের ঝুঁকির একটি সম্পর্ক থাকতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। গবেষণাটি সরাসরি প্রমাণ করেনি যে ঝাল খাবার ক্যানসার সৃষ্টি করে। এটি শুধু দুটি বিষয়ের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছে। এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?

সাম্প্রতিক একটি মেটা-বিশ্লেষণে বিভিন্ন দেশের একাধিক গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, যারা নিয়মিত এবং বেশি পরিমাণে ঝাল খাবার খেতেন, তাদের মধ্যে খাদ্যনালীর ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি ছিল। তবে এই সম্পর্ক সব দেশ বা সব ধরনের খাদ্যনালীর ক্যানসারের ক্ষেত্রে একই রকম ছিল না।

অন্যদিকে, চীনের একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় ভিন্ন ফল পাওয়া গেছে। সেখানে নিয়মিত ঝাল খাবার খাওয়ার সঙ্গে খাদ্যনালীর ক্যানসারের ঝুঁকি কম থাকার ইঙ্গিতও মিলেছে, বিশেষ করে যারা ধূমপান বা অ্যালকোহল পান করতেন না। অর্থাৎ বিষয়টি এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

কেন ঝাল খাবার নিয়ে এমন আলোচনা?

মরিচের ঝালের জন্য দায়ী উপাদানের নাম ক্যাপসাইসিন।

এই উপাদান নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাপসাইসিনে প্রদাহ কমানোর মতো উপকারী বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। আবার কিছু গবেষণায় ধারণা করা হয়েছে, খুব বেশি পরিমাণে এবং দীর্ঘদিন ধরে গ্রহণ করলে এটি কিছু মানুষের খাদ্যনালীর আবরণে বারবার জ্বালাপোড়া বা প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। তবে এ বিষয়েও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

খাদ্যনালীর ক্যানসারের ঝুঁকি আর কী কী কারণে বাড়ে?

খাদ্যনালীর ক্যানসারের পেছনে শুধু খাদ্যাভ্যাস দায়ী নয়। আরও অনেক পরিচিত ঝুঁকির কারণ রয়েছে। যেমন - ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান, দীর্ঘদিন অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুকজ্বালা, স্থূলতা, ফল ও শাকসবজি কম খাওয়া এবং খুব গরম খাবার বা পানীয় নিয়মিত গ্রহণ।

এসব কারণের প্রভাব অনেক ক্ষেত্রেই ঝাল খাবারের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

কোন লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না?

খাদ্যনালীর ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। তবে নিচের উপসর্গগুলো দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

  • খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া
  • বারবার বুকজ্বালা বা অ্যাসিডিটি
  • গলায় বা বুকে ব্যথা
  • অকারণে ওজন কমে যাওয়া
  • খাবার আটকে যাওয়ার অনুভূতি
  • দীর্ঘদিন কাশি বা কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া

এসব লক্ষণ মানেই ক্যানসার নয়। তবে কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তাহলে কি ঝাল খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে?

বর্তমান বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, শুধু এই গবেষণার ভিত্তিতে ঝাল খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো

  • অতিরিক্ত ঝাল খাবার নিয়মিত না খাওয়াই ভালো।
  • সুষম ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন।
  • ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
  • দীর্ঘদিন বুকজ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স থাকলে চিকিৎসা নিন।
  • নিয়মিত ফল ও শাকসবজি খান।

ঝাল খাবার ও খাদ্যনালীর ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা এখনও চলমান। কিছু গবেষণায় ঝুঁকি বাড়ার ইঙ্গিত মিললেও, অন্য গবেষণায় ভিন্ন ফলও পাওয়া গেছে। তাই বর্তমানে এটুকুই বলা যায়, অতিরিক্ত ঝাল খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলা এবং সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। কোনো উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র:আজকাল